চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট-শিবগঞ্জ সড়কের কাশিয়াবাড়ি মিরপুর গ্রামের কাছে ছোট্ট এই চায়ের দোকান। চার দশক আগে এখানে দোকান বসিয়েছিলেন মান্নু। সময়ের সঙ্গে দোকানটি শুধু চায়ের আড্ডা নয়, হয়ে উঠেছে স্থানীয় মানুষের পরিচিত ঠিকানা। তার নামেই জায়গাটির পরিচিতি এখন ‘মান্নুর মোড়’।
এই দোকানে কেউ বাকিতে চা নিলে সিমেন্টের খুঁটিতে পড়ে একটি চকের দাগ। টাকা পরিশোধ করলেই সেই দাগ মুছে দেন মান্নু। দাগ দেখেই বুঝে নেন কার কত বাকি। দীর্ঘদিনের এই হিসাব নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গেও তৈরি হয়েছে তার বিশ্বাসের সম্পর্ক।
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মান্নুর দোকানে চলে চায়ের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা। ইমাম, শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এখানে বসে গল্প করেন।
চায়ের এই ছোট্ট ব্যবসার আয়েই চার ছেলেকে বড় করেছেন মান্নু। এখন তার স্বপ্ন, আর্থিক স্বচ্ছলতা এলে হজে যাবেন।
সময় বদলেছে, বদলেছে হিসাব রাখার পদ্ধতিও। কিন্তু মান্নুর দোকানে আজও টিকে আছে চকের দাগে হিসাব আর মানুষের বিশ্বাস। চার দশকের এই সাদামাটা পদ্ধতিই যেন বলে দেয়, হিসাবের জন্য সবসময় খাতা লাগে না; লাগে বিশ্বাস আর নিজের তৈরি সহজ বুদ্ধি।
বসির আহমেদ