রাজউকের চার কর্মচারী বরখাস্ত

ঢাকা : পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট জালিয়াতির অভিযোগে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চার কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকৃতরা হলেন- পূর্বাচল এস্টেট শাখার কনিষ্ঠ হিসাব সহকারী মো. ফারুক মিয়া, অফিস সহকারী দীপক চন্দ্র শর্মা, এমএলএসএস মো. পারভেজ চৌধুরী ও জরিপ সাথী মো. মনজুর আলী।

বুধবার বিকেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরখাস্তের এ আদেশ জারি করে।

এদিকে, চার কর্মচারীকে বরখাস্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজউকের পরিচালক (প্রশাসন) দুলাল চন্দ্র সাহা বুধবার সন্ধ্যায় বাংলামেইলকে জানান, গতকাল (মঙ্গলবার) পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের একটি প্লট নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে হালিমা কাওসার নামে এক নারীকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করা হয়েছে। হালিমার তথ্যের ভিত্তিতে আজ (বুধবার) উল্লিখিত চার কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তিনি আরও জানান, জালিয়াতির ঘটনা তদন্তে রাজউকের অডিট ও বাজেট শাখার পরিচালক তুলশী রঞ্জন সাহাকে আহ্বায়ক এবং ঝিলমিল প্রকল্পের এস্টেট শাখার উপপরিচালক মো. কায়েসুজ্জামান ও পূর্বাচল প্রকল্পের এস্টেট শাখার সহকারী পরিচালক মো. মেহেদুজ্জামানকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি এ কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ২২ নম্বর সেক্টরের ১২৩/ডি সড়কের ১৮ নম্বর প্লট বরাদ্দ পান নাসরিন রহমান। কিন্তু জালিয়াত চক্রের সহযোগিতায় হালিমা কাওসার নামে এক নারী ভুয়া নাসরিন রহমান সেজে ওই প্লটটি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার হালিমা কাওসার বরাদ্দকৃত প্লটের কিস্তির টাকা জমা দিতে রাজউক ভবনে যান। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আসল নাসরিন রহমানকে ডেকে এনে দুজনকে মুখোমুখি করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসে। এরপর হালিমা কাওসারকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

রাজউক কর্মকর্তারা বাংলামেইলকে জানান, প্রায় দুবছর ধরে রাজউক জালিয়াত ও প্রতারক চক্রের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রায় সময়ই জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ছে। কিন্তু তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। এ অবস্থায় গত বছর একই ধরনের একটি চক্রের হোতাকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়। এরপেই ঘটলো মঙ্গলবারের ঘটনা।

মন্তব্য