ঢাকা | বঙ্গাব্দ

অবশেষে ‘মহাকাশে অস্ত্র’ মোতায়েনের কথা স্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 15, 2026 ইং
অবশেষে ‘মহাকাশে অস্ত্র’ মোতায়েনের কথা স্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র ছবির ক্যাপশন:
ad728

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্সে দেওয়া বক্তব্যে মেইঙ্ক বলেন, পরিবর্তিত ও ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। তবে কক্ষপথে মোতায়েন করা অস্ত্রটির ধরন, সক্ষমতা কিংবা ঠিক কখন এটি মহাকাশে পাঠানো হয়েছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।

মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা এর আগে মহাকাশে দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তাদের দাবি, রাশিয়া ও চীন এমন প্রযুক্তি ও কর্মসূচি উন্নয়ন করছে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সংঘাতে মার্কিন স্যাটেলাইটে হামলা বা সেগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করা সম্ভব হতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনও মহাকাশভিত্তিক সক্ষমতা এবং ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো ক্ষেপণাস্ত্রসহ আকাশপথের বিভিন্ন হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সুরক্ষা দেওয়া।

১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিতে মহাকাশে ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়। তবে এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনসহ বড় শক্তিগুলো চুক্তির আওতার বাইরে থাকা বিভিন্ন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে কাজ করে আসছে। এর মধ্যে প্রতিপক্ষের স্যাটেলাইটকে লক্ষ্যবস্তু করার প্রযুক্তিও রয়েছে। সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশনের জন্য এসব স্যাটেলাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে মার্কিন স্পেস ফোর্সের দায়িত্ব শুধু মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে প্রয়োজনে আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন স্পেস ফোর্স দেশটির ৭০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সামরিক বাহিনীর নতুন শাখা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। মহাকাশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ, বিশেষ করে যোগাযোগ ও নজরদারির কাজে ব্যবহৃত শত শত স্যাটেলাইট সুরক্ষাই এর অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘স্পেস কন্ট্রোল’ বা মহাকাশ নিয়ন্ত্রণের আওতায় প্রতিপক্ষের সক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটানো, কার্যকারিতা কমিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে ধ্বংস করার মতো ‘কাইনেটিক’ ও ‘নন-কাইনেটিক’ পদ্ধতি ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে। এসব সক্ষমতা আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করা যেতে পারে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরুতে জানা যায়, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে দুটি রুশ স্যাটেলাইট সম্ভবত অন্তত এক ডজন ইউরোপীয় স্যাটেলাইটের যোগাযোগে হস্তক্ষেপ করেছে। এর ফলে রুশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্যাটেলাইটগুলোর মাধ্যমে পাঠানো সংবেদনশীল তথ্য পড়তে পেরেছে বলে ধারণা করা হয়। এমনকি তাত্ত্বিকভাবে স্যাটেলাইটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।

মার্কিন স্পেস ফোর্সের দাবি, চীন সামরিক আধুনিকায়ন কৌশলের অংশ হিসেবে মহাকাশ ও ‘কাউন্টারস্পেস’ সক্ষমতা উন্নয়ন ও পরিচালনা করছে। অন্যদিকে রাশিয়া মহাকাশকে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যৎ সংঘাতে মহাকাশে আধিপত্যকে গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হিসেবে দেখে।

সূত্র: বিবিসি


নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
চাকরির পরীক্ষা থেকে মোদি সরকারের গদি: ককরোচ জনতা পার্টির উত্

চাকরির পরীক্ষা থেকে মোদি সরকারের গদি: ককরোচ জনতা পার্টির উত্