ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে চালকদের। এ পরিস্থিতিকে ঘিরে মজুদদারদের বিরুদ্ধে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল মজুত করার প্রবণতার অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের বিরুদ্ধেও। রাজধানীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা গেছে, ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে অপেক্ষা করছেন চালকেরা। অনেকেই সকাল থেকে লাইনে অবস্থান করছেন। আবার জ্বালানির অভাবে কিছু পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধও রাখা হয়েছে। ভোক্তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিমভাবে সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এ জন্য তারা মজুদদারদের দায়ী করছেন এবং দ্রুত সমস্যা সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যদিকে পাম্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, তেলের সংকট বা দাম বৃদ্ধির আশঙ্কায় হঠাৎ করেই গ্রাহকদের চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশের জ্বালানি তেলের বাজার বর্তমানে এক ধরনের অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের ওঠানামা সরাসরি প্রভাব ফেলছে দেশের আমদানি ব্যয় ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, যা সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। ফলে বাজারে গুজব, আতঙ্ক এবং অতিরিক্ত ক্রয়ের প্রবণতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর নজরদারি, স্বচ্ছ সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা জরুরি। পাশাপাশি ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে, যাতে অপ্রয়োজনীয় মজুত করে সংকট আরও বাড়িয়ে না তোলা হয়।