জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটকের পর রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে ডিবি হেফাজতে রাখা হয়। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সাবেক স্পিকার বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে কী কী মামলা রয়েছে, সে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে। জানা গেছে, রংপুরে শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলায় সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার রংপুর মহানগর কোতোয়ালি আমলি আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। শিরীন শারমিন চৌধুরী রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন এবং ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার শপথ গ্রহণ করে। এরপর ২ সেপ্টেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের পদ থেকে পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। এর আগে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে টানা চারবার এ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন। ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করে এবং ১০ জানুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে এলএলবি (অনার্স) এবং ১৯৯০ সালে এলএলএম—উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব এসেক্স থেকে ‘দ্য রাইট টু লাইফ’ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। আইনজীবী হিসেবে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ, মানবাধিকার ও সংবিধান-সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলায় কাজ করেছেন। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোতে তিনি প্যানেল আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।