
ইতালি চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিনটি বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা তাদের ইতিহাসে নজিরবিহীন। জেন্নারো গাত্তুসোর দল প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট হারায়। ২০১৪ সালের পর থেকে আর বিশ্বকাপে দেখা যায়নি আজ্জুরিদের।
ডেনমার্ক ১৯৯২ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা এবারও খুব কাছে গিয়েও বিশ্বকাপে উঠতে পারেনি। স্কটল্যান্ডের কাছে সরাসরি টিকিট হারানোর পর প্লে-অফেও চেকিয়ার কাছে পরাজিত হয় তারা। তবে শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে ২০৩০ সালে ফেরার আশাবাদী ডেনিশরা।
পোল্যান্ড নয়বারের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণকারী পোল্যান্ড ১৯৭৪ ও ১৯৮২ সালে তৃতীয় হয়েছিল। রবার্ট লেভানডোভস্কির যুগ শেষের পথে হলেও নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলারদের ওপর ভরসা করছে দেশটি।
হাঙ্গেরি দুইবারের বিশ্বকাপ রানার্সআপ হাঙ্গেরি ১৯৮৬ সালের পর আর বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। তবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ধারাবাহিক উপস্থিতি তাদের নতুন করে আশাবাদী করে তুলেছে।
রোমানিয়া ১৯৯৪ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা রোমানিয়া এরপর মাত্র একবার বিশ্বকাপে খেলেছে। এবারও প্লে-অফে তুরস্কের কাছে হেরে বাদ পড়লেও কিংবদন্তি ঘেওর্গে হাজির অধীনে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে দলটি।
নাইজেরিয়া আফ্রিকার অন্যতম সফল দল নাইজেরিয়া ছয়টি বিশ্বকাপ খেলেছে এবং তিনবার শেষ ষোলোতে উঠেছে। তবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি তারা। প্রতিভার অভাব না থাকলেও ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে আনাই এখন তাদের বড় চ্যালেঞ্জ।
ক্যামেরুন আফ্রিকার সবচেয়ে বেশি আটটি বিশ্বকাপ খেলা দেশ ক্যামেরুন। ১৯৯০ সালে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল তারা। ২০২৬ বাছাইপর্বে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০৩০ সালে শক্তভাবে ফেরার লক্ষ্য নিয়েছে 'ইনডমিটেবল লায়ন্স'।
চিলি ১৯৬২ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া চিলি টানা তিনটি বিশ্বকাপ মিস করেছে। আলেক্সিস সানচেজ-আর্তুরো ভিদালদের প্রজন্মের বিদায়ের পর নতুন দল গড়েই আবার বিশ্বমঞ্চে ফিরতে চায় লা রোজা।
পেরু ১৯৭০ ও ১৯৭৮ বিশ্বকাপে শেষ আটে উঠেছিল পেরু। ২০১৮ সালে দীর্ঘ ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরলেও এরপর আর সফল হতে পারেনি। নতুন আক্রমণভাগ গড়ে তুলেই ২০৩০ বিশ্বকাপকে লক্ষ্য করছে তারা।
কোস্টারিকা ২০১৪ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল কোস্টারিকা। কিন্তু ২০২৬ বাছাইপর্বে ব্যর্থ হয়ে তারা বিশ্বকাপের টিকিট হারায়। নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে আবারও মধ্য আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে ফিরে আসতে চায় তারা।
ফিফার মতে, এই ১০টি দেশেরই রয়েছে সমৃদ্ধ বিশ্বকাপ ইতিহাস। সাম্প্রতিক ব্যর্থতা কাটিয়ে সঠিক পরিকল্পনা, নতুন প্রজন্মের ফুটবলার এবং কার্যকর দল গঠনের মাধ্যমে ২০৩০ বিশ্বকাপে তাদের অনেককেই আবার দেখা যেতে পারে।