
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির বরাতে জানা গেছে, তালাতা মাফারা স্থানীয় সরকার এলাকার সাউনা জেলার প্রতিনিধি নাসিরু লাউয়ালি জানান, বুধবার দুপুর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র হামলাকারী গ্রামগুলোতে ঢুকে নির্বিচারে হামলা চালায়।
তিনি বলেন, “তারা যাকে সামনে পেয়েছে, তাকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলাকারীরা গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালায় এবং সাধারণ মানুষকে হত্যা করে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে সশস্ত্র ডাকাতচক্রের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এসব গোষ্ঠী নিয়মিত গ্রামে হামলা চালিয়ে গবাদিপশু লুট, হত্যাকাণ্ড এবং মুক্তিপণের জন্য বাসিন্দাদের অপহরণ করছে।
এদিকে মঙ্গলবার গভীর রাতে কোয়ারা অঙ্গরাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর পৃথক এক অভিযানে সন্দেহভাজন অন্তত তিন ডাকাত নিহত হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য পাঞ্চ জানিয়েছে, ওই অভিযানে অপহৃত এক ব্যবসায়ী তুহকুর সান্নিকেও নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
নাইজেরিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অপহরণ বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো সরকার ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে নিয়মিত অপহরণ চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারামের দীর্ঘদিনের বিদ্রোহ এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে সংকট আরও গভীর হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসবিএম ইন্টেলিজেন্স-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মুক্তিপণের মাধ্যমে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ১৬ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থ আদায় করেছে।
চলতি মাসের শুরুতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ওইও অঙ্গরাজ্যের তিনটি স্কুল থেকে অপহৃত কয়েক ডজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে ৫৬ দিন পর উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় আটজন সন্দেহভাজন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আরও কয়েকজন নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু।
দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস্টোফার মুসা বলেন, অপহরণকারীদের উদ্দেশ্য ছিল জিম্মিদের ব্যবহার করে কারাগারে থাকা তাদের কয়েকজন শীর্ষ নেতার মুক্তির জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা।