
দলীয় এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লির এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবু দলীয় স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দিল্লিতে নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে যে আন্দোলন চলছে, তা এখন দেশের অন্যতম বড় ছাত্র আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। বহু ছাত্র-ছাত্রী এবং বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন। সেই আন্দোলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি রাজনৈতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সংসদ এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিভিন্ন ইস্যুতে চাপের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় স্তরের একটি বড় আন্দোলনে অংশ নিয়ে দলের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রবিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স (আগের টুইটার)-এ একটি পোস্ট করে আন্দোলনকারী ছাত্রদের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা আবারও জানিয়েছেন তিনি। মমতা লিখেছেন, 'শুরু থেকেই আমি ছাত্রছাত্রীদের পাশে রয়েছি। নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন শুধু ন্যায়বিচারের দাবি নয়, দেশের প্রতিটি তরুণ-তরুণীর ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই। এই আন্দোলনের পাশে রয়েছে গোটা বিরোধী শিবির এবং দেশের মানুষ।'
তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি নিজে আন্দোলনে যোগ দেবেন। সেই ঘোষণার পর থেকেই তাঁর দিল্লি যাওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছিল। এবার সেই জল্পনাই বাস্তব হতে চলেছে বলে দলীয় সূত্রের দাবি। নিট পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়। পরীক্ষা বাতিল, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন জায়গায় আন্দোলন চলছে। দিল্লির যন্তর মন্তরে ছাত্রদের অবস্থান বিক্ষোভও সেই আন্দোলনেরই অংশ।
যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার যন্তর মন্তরে যান, তাহলে আন্দোলনে নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব যোগ হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর সফরের দিকে নজর থাকবে শুধু দিল্লি নয়, গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলেরও। এখন দেখার, আন্দোলনস্থলে গেলে, সেখানে তিনি কী বার্তা দেন এবং নিট প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণের সুর কতটা তীব্র হয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস