
গুলি, গুম, গ্রেপ্তার—সবকিছু যেন একসঙ্গে নেমে এসেছিল রাজপথে। কিন্তু রক্তাক্ত জুলাইয়ের উত্তাল ঢেউ থামানো যাচ্ছিল না। আন্দোলনের আগুন যত নিভিয়ে দিতে চেয়েছিল তৎকালীন সরকার, ততই তা ছড়িয়ে পড়েছিল দেশজুড়ে।
রাজপথে ছাত্র-জনতার ওপর সরাসরি গুলি চালিয়েও যখন আন্দোলন দমন সম্ভব হচ্ছিল না, তখন ভিন্ন কৌশল নেয় তৎকালীন সরকার। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা শীর্ষ সমন্বয়কদের একে একে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়। গুমের শিকার হওয়ার পর মুক্ত হয়ে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ। কিন্তু সেখানেও শেষ রক্ষা হয়নি।
হাসপাতাল থেকেই তাদের জোর করে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। একই সময় আটক করা হয় সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদারকেও। প্রথমে সরকার নীরব থাকলেও কয়েক ঘণ্টা পর তৎকালীন ডিবি প্রধান হরুনুর রশিদ তাদের আটকের বিষয়টি স্বীকার করেন। সেই স্বীকারোক্তি আরও বাড়িয়ে দেয় উদ্বেগ, আতঙ্ক আর ক্ষোভ।
এদিন কয়েক ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল করা হয়। রাস্তায় কিছুটা যানবাহন চললেও মানুষের চোখেমুখে ছিল ভয় আর অনিশ্চয়তা। অন্যদিকে শুরু হয় দেশব্যাপী ব্লক রেইড অভিযান। আন্দোলনে জড়িত থাকার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়। ছয় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিবারগুলো ছুটে বেড়ায় থানায়, আদালতে, হাসপাতালের বারান্দায়—প্রিয়জনের একটি খোঁজের আশায়।
আহতদের পাশে না দাঁড়িয়ে সরকারি স্থাপনা পরিদর্শনে যাওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার। সেই চাপের মধ্যেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান। একই দিনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের অভিযোগ করেন, আন্দোলনকে পুঁজি করে বিএনপি, জামায়াত, উগ্র বামপন্থী ও বিদেশি শক্তি সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করছে এবং তা প্রতিহত করা হবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও বাড়তে থাকে উত্তাপ। ফ্যাসিবাদী সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে অংশ নিতে দেশের সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিবৃতির মাধ্যমে তিনি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও বাড়তে থাকে চাপ। ব্লক রেইড অভিযান বন্ধ, ইন্টারনেট সংযোগ পুনরায় চালুর পাশাপাশি পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মোকাবিলা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানায় জাতিসংঘ।