
রবিবার (২৬ জুলাই) ত্রিপোলির পশ্চিমাঞ্চলীয় জানজুর এলাকায় উপকূলীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। পাশাপাশি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার প্রতিবাদে তারা পশ্চিম ত্রিপোলি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সামনে জড়ো হয়।
ভিডিওতে আরও দেখা যায়, ত্রিপোলির জাওয়িয়াত আল-দাহমানি এলাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে একটি মাটিভর্তি ট্রাক থেকে মাটি ফেলে ভবনটি বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
লিবিয়া রিভিউ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ তরুণ বিক্ষোভকারী রাজধানীর সুুক আল-জুমা এলাকায় রাষ্ট্রীয় টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান লিবিয়ানার কার্যালয়ও বন্ধ করে দেয়। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী আবদুল হামিদ দবেইবার সমালোচনা করে বিভিন্ন ব্যানার বহন করে।
এই আন্দোলনের সূচনা করে সুুক আল-জুমা মুভমেন্ট, যারা ২০২৫ সালের মে মাস থেকে জাতীয় ঐক্য সরকার বা গভর্নমেন্ট অব ন্যাশনাল ইউনিটির (GNU) বিরোধিতা করে আসছে। রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, তাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষের জীবন ব্যাহত করা নয়; বরং “সরকারকে সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া”।
সংগঠনটি দুর্নীতির অভিযোগের জবাবদিহি এবং লিবিয়ার বিদ্যমান রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো—সরকার, প্রতিনিধি পরিষদ, স্টেট কাউন্সিল ও প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল—ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
তাজুরা ফ্যামিলিজ অ্যান্ড ইয়ুথ মুভমেন্ট জানিয়েছে, সোমবার থেকে তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বর্জনের কর্মসূচি শুরু করবে। তারা জাতীয় ঐক্য সরকার এবং প্রতিনিধি পরিষদ—উভয়ের বিরোধিতা করছে।
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, সেবা খাতের অবনতির প্রতিবাদে এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। তারা বিদ্যুৎ, পানি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার অবনতি, পাশাপাশি জ্বালানি ও নগদ অর্থ সংকট এবং ওষুধের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বলেছে, “কর্মকর্তারা রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ব্যস্ত রয়েছেন।” জাতীয় ঐক্য সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ত্রিপোলি ও অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দিনে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জেনারেল ইলেকট্রিসিটি কোম্পানি দুই বছর তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকার পর আবারও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে লোডশেডিং ব্যবস্থা চালু করতে বাধ্য হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অস্থিতিশীলতা, জ্বালানি ও নগদ অর্থের ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে জনগণের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
এদিকে, আফ্রিকা বিষয়ক হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা মাসাদ বুলোস জানিয়েছেন, তিনি রোববার প্রধানমন্ত্রী দবেইবার সঙ্গে একটি “ফলপ্রসূ আলোচনা” করেছেন। আলোচনায় লিবিয়ার ঐক্যের পথে অগ্রগতি এবং দেশটির পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয় উঠে আসে।
বুলোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, “আমরা লিবিয়ার বাহিনী এবং আফ্রিকমের (যুক্তরাষ্ট্রের আফ্রিকা কমান্ড) মধ্যে আরও সমন্বয় ও কার্যকর সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা করেছি।” তিনি আরও বলেন, টেকসই শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে লিবিয়ার ঐক্য প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।