
সোমবার (২৭ জুলাই) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকটে ভোগান্তির জন্য সরকার জনগণের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে এটি কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের নয়, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউতে সৃষ্ট কারিগরি ত্রুটির ফল। সরকার প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট আসে দেশীয় উৎপাদন থেকে, আর বাকি অংশ আমদানিকৃত এলএনজি।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, দেশীয় উৎপাদনে কোনো সমস্যা নেই। সংকটের মূল কারণ এক্সিলারেট এনার্জির একটি এফএসআরইউতে বড় ধরনের কারিগরি ত্রুটি। প্রাথমিকভাবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সমস্যা সমাধানের আশা করা হলেও পরে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ এনে মেরামতের কাজ শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী টার্মিনালটির বয়লারে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে অন্তত ৫০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং পরের সপ্তাহে পূর্ণ সক্ষমতায় সরবরাহ পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস ও প্রযুক্তির দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পে সরবরাহের উদ্যোগ চলছে। একই সঙ্গে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েই সরকার এগোচ্ছে। একই সঙ্গে অতীতের জ্বালানি পরিকল্পনার সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, দীর্ঘদিন টেকসই পরিকল্পনার অভাব এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের ওপর নির্ভরশীলতার কারণেই বর্তমান সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।