
মেঘনার বুকে প্রায় দুই থেকে আড়াই দশক আগে জেগে ওঠা দায়েমী চর নারায়ণপুরে নিজেদের শ্রম, অর্থ আর ঘাম ঝরিয়ে আবাদযোগ্য করে তুলেছিলেন শরীয়তপুরের কৃষকরা। বছরের পর বছর ধান, মরিচ, চিনাবাদাম, তিলসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তারা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে শরীয়তপুর ও চাঁদপুর জেলার সীমানা নিয়ে জটিলতার সুযোগে একের পর এক মামলার মুখে পড়ছেন কৃষকরা। গ্রেফতারের আশঙ্কা আর হয়রানির ভয়ে অনেকেই এখন নিয়মিত জমিতে যেতে পারছেন না। কেউ কেউ থাকছেন আত্মগোপনেও।
স্থানীয়দের দাবি, ২০০৫ সালে শরীয়তপুর, চাঁদপুর ও বরিশাল জেলার প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে সাহেবগঞ্জ বাজারসংলগ্ন এলাকায় সরকারি সীমানা পিলার স্থাপন করা হলেও আজ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে সীমানা নির্ধারণ হয়নি। সেই প্রশাসনিক জটিলতার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের। মামলা, তদন্ত ও পুলিশি তৎপরতায় পুরো চরাঞ্চলে বিরাজ করছে আতঙ্ক।
সচেতন মহল বলছে, আধুনিক ভূমি জরিপের মাধ্যমে দ্রুত জেলা দুটির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি গেজেট অনুযায়ী সীমারেখা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে শরীয়তপুর ও চাঁদপুর জেলার সীমানা জটিলতার বিষয়টি স্বীকার করে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, দুই জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের এই অনিশ্চয়তায় সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। দ্রুত প্রশাসনিক সমাধান না হলে শুধু কৃষি উৎপাদনই নয়, নতুন করে সংঘাত ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাও বাড়বে। তাই মামলা নয়, স্থায়ী সমাধান চান দায়েমী চর নারায়ণপুরের বাসিন্দারা।