
২০১০ সাল থেকে বাংলাদেশে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ ব্রেস্ট ফিডিং ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ সপ্তাহ পালনে বিশেষ উদ্যোগ এবং বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পান: টেকসই উদ্যোগ করি বেগবান’।
১৯৯০ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে ইনোসেনটি গবেষণা কেন্দ্রের ঘোষণার সম্মানে ১৯৯২ সাল থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে এ দিবসটি উদযাপন শুরু করে। পরবর্তীতে ১ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত বিশ্ব স্তন্যদান সপ্তাহ হিসেবে সারা বিশ্বে দিবসটি পালন করা হয়। এ সময় মায়েদের বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উৎসাহিত করতে একটি বৈশ্বিক প্রচারাভিযান পরিচালিত হয়।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মায়ের দুধ নবজাতকের জন্য আদর্শ পুষ্টিকর খাবার। এতে সংক্রামক ব্যাধির আক্রমণ অনেক কমে যায়। মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ ঘটে পরিপূর্ণভাবে। এতে মায়েদের স্তন ও ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকিও কমে। জন্মের পর থেকে ৬ মাস বয়স পর্যন্ত শুধু মায়ের দুধই শিশুর একমাত্র পূর্ণাঙ্গ খাবার হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সায়েন্সের গবেষণা অনুযায়ী, মাতৃদুগ্ধ পান শিশু মৃত্যুর হার ২০ শতাংশ কমায়। বিভিন্ন গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুর ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, কান ও বুকের ইনফেকশন, কোষ্ঠকাঠিন্য, একজিমা, অ্যালার্জি এবং পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় ওবেসিটি (অতিরিক্ত ওজন) ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা মাতৃদুগ্ধ না পানকারী শিশুর তুলনায় অনেক কম। তাছাড়া মাতৃদুগ্ধ পানকারী শিশুর বুদ্ধির বিকাশও সঠিক হয়।
স্তন্যদান শিশুর সঙ্গে মায়ের এক দৃঢ় মানসিক বন্ধন সৃষ্টি করে, যা শিশুর মানসিক বিকাশে সহায়ক। মাতৃদুগ্ধের জন্য কোনো ব্যয় লাগে না, এটি সর্বদাই প্রস্তুত এবং জীবাণুমুক্ত থাকে। শিশুকে নিয়মিত দুধ খাওয়ালে মায়ের অতিরিক্ত ওজন কমে আসে।
এ ছাড়া স্তন্যদান মায়েদের স্তন ক্যানসার, জরায়ু ক্যানসার ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত স্তন্যদান প্রাকৃতিকভাবে সন্তান নিতে কিছুটা বিলম্ব ঘটায়, যা পরিবার পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে। তাই মায়েদের স্তন্যদান বিষয়ে সচেতন করা এবং মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর স্বাস্থ্যগত সুবিধাগুলো তুলে ধরাই বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের অন্যতম লক্ষ্য।
বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহের সূচনা উপলক্ষে শনিবার সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এছাড়াও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।