
গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য এবং রাজধানী কারাকাস সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ভূমিকম্পের পর থেকে নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে বেড়াচ্ছেন বহু মানুষ। তবে দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের ধীরগতির ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে সরকার ও সামরিক বাহিনী পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
বর্তমানে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে সৃষ্ট ধ্বংসস্তূপের মাত্র ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ফলে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কাজ কত দ্রুত এগোবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। যদিও দুর্যোগের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেই অর্থ কোথা থেকে এবং কীভাবে আসবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানে আটক করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর ব্যাপক প্রভাব বজায় রেখেছে। এছাড়া মাদুরোর আমলে আরোপিত যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাও এখনও বহাল রয়েছে।
মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের দাবি, ভেনেজুয়ায় ত্রাণ ও পুনর্গঠনের অর্থপ্রবাহ সহজ করতে দেশটির ওপর থাকা অবশিষ্ট অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার করা উচিত।
সূত্র: আলজাজিরা