
কয়েক দিন আগেও ধারণা করা হচ্ছিল, আগামী মার্চে ফিফা সভাপতি হিসেবে চতুর্থ ও শেষ মেয়াদে প্রায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন ৫৬ বছর বয়সী সুইস আইনজীবী জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। কিন্তু বিশ্বকাপে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা প্রত্যাহারের পর পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে।
গত শনিবার পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণা দিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, তাদের উদ্দেশ্য সবসময়ই ফুটবলে ঐক্য ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য থেকেই প্রস্তাবটি আর এগিয়ে নেওয়া হবে না।
তবে এই সিদ্ধান্তের পরও সমালোচনা থামেনি। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা জানিয়েছে, পরিকল্পনাটি যেভাবে সামনে আনা হয়েছিল, তা স্বচ্ছতা ও সুশাসনের পরিপন্থী। সংস্থাটি বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে।
উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনকাকাফও ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দুর্বল নেতৃত্ব এবং সুশাসনের ঘাটতির আরেকটি উদাহরণ। একই সঙ্গে তারা ফিফা সভাপতির কর্মকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। সংস্থাটির সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানিকে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সমালোচনার তালিকায় রয়েছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা, জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) এবং ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। তাদের বক্তব্য, ফিফায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা, সদস্যদের অংশগ্রহণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রিন্স আলি বিন আল-হুসেইন গুরুতর অভিযোগ তুলে দাবি করেছেন, ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনে সমর্থন না দিলে ফিফার প্রাপ্য অর্থ আটকে রাখার চাপ দেওয়া হয়েছে। তিনি এই ঘটনাকে ‘ব্ল্যাকমেইল’ বলে অভিহিত করেন।
ইতোমধ্যে ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে ইনফান্তিনোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। সুইডেন, সার্বিয়া ও ফিনল্যান্ডও একই অবস্থান নিয়েছে।
ফিফার ভেতরেও অস্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্ট প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার দাবি করেছেন, বিতর্কিত পরিকল্পনার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন না। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, পরিকল্পনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ছিল ‘অবশ্যই প্রয়োজনীয়’।
অন্যদিকে ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রম কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো বার্তায় বলেছেন, ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্ব ফুটবলের প্রতি ফিফার দায়বদ্ধতা অব্যাহত থাকবে।
যদিও সমালোচনার ঝড় বইছে, তবুও ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছে কয়েকটি প্রভাবশালী ফুটবল সংস্থা। মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফাউজি লেকজা বলেছেন, সদস্য দেশগুলোর ঐক্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইনফান্তিনো সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
একই অবস্থান নিয়েছে ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারও। কাতার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, বিতর্কিত প্রস্তাব প্রত্যাহারের মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর ঐক্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে ইনফান্তিনোর প্রচেষ্টার প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের বিনিয়োগ পরিকল্পনা ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক ফিফার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নতুন রাজনৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে। আগামী মার্চের নির্বাচনকে সামনে রেখে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
সূত্র: ডন