
রায়ে আদালত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটাকে পরিবেশ দূষণকারী একটি কারখানার সঙ্গে তুলনা করে ‘জনউপদ্রব’ হিসেবে উল্লেখ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, একটি কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া যেমন মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের পরিবেশ দূষিত করে, তেমনি মেটার প্ল্যাটফর্মের কারণে শিশুদের যে মানসিক ক্ষতি, যৌন শোষণ ও অনলাইন হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়, তার প্রভাব শুধু ভার্চুয়াল জগতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পুরো সমাজে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, জরিমানার বড় একটি অংশ দিয়ে বিশেষ তহবিল গঠন করতে হবে। এই তহবিল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, পুনর্বাসন এবং শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের ব্যয় বহন করা হবে।
২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, মেটার রিকমেন্ডেশন অ্যালগরিদম অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং যৌন শিকারিদের সংস্পর্শে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রেখেছে। মামলার দ্বিতীয় ধাপের রায়ে জরিমানার পাশাপাশি ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় মেটাকে কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে—প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের মধ্যে সরাসরি বার্তা (ডাইরেক্ট মেসেজ) আদান-প্রদান সম্পূর্ণ বন্ধ করা, রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত এবং স্কুল চলাকালীন সময়ে পুশ নোটিফিকেশন নিষিদ্ধ করা, পোস্টের লাইক সংখ্যা গোপন রাখা এবং মাসে সর্বোচ্চ ৯০ ঘণ্টা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করা।
তবে আদালতের এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করেছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কিশোর-কিশোরীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে এবং আদালতের এই রায়ে প্রকৃত তথ্য যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। তাই তারা উচ্চ আদালতে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।
এদিকে নিউ মেক্সিকোর এই ঐতিহাসিক রায়ের পর আগামী সপ্তাহেই ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশুদের গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রায় তিন ডজন মার্কিন অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা আরেকটি মামলার বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা।
সূত্র: বিবিসি