
গাইবান্ধায় সাঁওতাল সম্প্রদায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগণের অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের নানামূখী চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছর ৯ আগস্ট এ দিবস পালিত হয়। এ দিবসটি সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহ্যগত জ্ঞান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের অসামান্য অবদানকেও স্বীকৃতি জানায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সাঁওতাল নারী-পুরুষরা তাদের অধিকার ও দাবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে বর্ণাঢ্য মিছিল এলাকা প্রদক্ষিণ করে। সাঁওতালসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী স্টলের মাধ্যমে ঐতিহ্য প্রদর্শন করে। সাঁওতাল নারী-পুরুষরা গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে অবলম্বন ও আমরাই পারি। প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করেছে এম্বাসি অব সুইজারল্যান্ড, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সারাদেশে সাঁওতালসহ অন্যান্য জনগোষ্ঠী মানবাধিকার এবং জীবনমানের সার্বিকদিক দিয়ে আজও নানাভাবে বঞ্চিত। সে কারণেই দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর থেকে পিছিয়ে পড়া অবহেলিতরা বিলুপ্ত হওয়ার পথে। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ভাষাও বিলুপ্ত হচ্ছে। এরা বাংলাদেশের দরিদ্রতম জনগাষ্ঠী। অধিকাংশই ভূমিহীন, তাদের হাতে ভূমি নেই।
তারা আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের নাম ক্রমাগত সাঁওতালসহ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও সাঁওতালরা তাদের অধিকার ও মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ করেন তারা।
আলোচনা সভায় পল্লবী মুর্মুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন অবলম্বন এর নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্তী, শাখাহার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির, শিরিগাও স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু হাই সিদ্দিক, সরলা পালসা, গ্লোরিয়া তিগ্যা, সুশীল টপ্য, তারামনি টপ্য, আবিনা টপ্য, ফিলিমনা হেমব্রম প্রমুখ।