
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের কিছু বেশি। বিপরীতে খাতা-কলমে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ৩৩ হাজার ৯২ মেগাওয়াট। এরপরও উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ কাজে লাগানো যাচ্ছে না জ্বালানি সংকটসহ নানা কারণে।
বিদ্যুৎ খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ গ্যাসভিত্তিক। সম্প্রতি মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় অনেক কম গ্যাস পাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দৈনিক ২ হাজার ৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও মঙ্গলবার সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে জ্বালানি সংকটে বেশ কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাসের পাশাপাশি দেশের অন্যতম বড় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতেও কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। কারিগরি ত্রুটির কারণে বড়পুকুরিয়ার মতো বৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে, বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন বেসরকারি কেন্দ্র ও বিদ্যুৎ আমদানিকারকদের কাছে সরকারের বড় অঙ্কের বকেয়া বিল জমে থাকায় সংকট আরও জটিল হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে কম-বেশি লোডশেডিং সব সময়ই ছিল। তবে গত ২৮ জুলাই থেকে এর মাত্রা প্রকট আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে গত ১০ আগস্ট এর পরিমাণ অতীতের অনেক রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ওই দিন দুপুরে ১৬ হাজার ২৬২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ওই সময় ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ঢাকা জোনে ৬ হাজার ৪৩২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৫৮৫ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। বাকি বিভাগগুলোতেও চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় একটি কৌশল নেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা হলেও স্বাভাবিক হবে।
তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের চলমান সংকট পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলএনজি টার্মিনালের ত্রুটির কারণে এখনো পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশীয় গ্যাস উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া।