
প্রায় ৭১২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের আমামি ওশিমা দ্বীপটি জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এই দ্বীপে রয়েছে পৃথিবীর আর কোথাও না পাওয়া বেশ কিছু প্রাণী। এর মধ্যে অন্যতম বিরল ও বিপন্ন আমামি খরগোশ।
তবে ১৯৭০-এর দশকে দ্বীপবাসীর বড় উদ্বেগ ছিল বিষধর হাবু সাপ। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত আমামি ওশিমা, টোকুনোশিমা ও আশপাশের দ্বীপে হাবুর কামড়ে ২ হাজার ৬৭৩ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তাই সাপ নিয়ন্ত্রণে বেজিকে সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে বেছে নেয় কর্তৃপক্ষ। এই উদ্যোগে জড়িয়ে যায় বাংলাদেশের নামও। ১৯১০ সালে বাংলাদেশ থেকে ছোট ভারতীয় বেজি ওকিনাওয়া দ্বীপে নেওয়া হয়েছিল। পরে সেখান থেকেই প্রায় ৩০টি বেজি ১৯৭৯ সালে আমামি ওশিমায় আনা হয়।
কিন্তু পরিকল্পনায় বড় ভুল ছিলো। হাবু সাপ মূলত নিশাচর, আর বেজি দিনের বেলায় বেশি সক্রিয়। ফলে সাপের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিলো কম। বিপরীতে দিনের বেলায় বেজির সামনে সহজ শিকার হয়ে ওঠে আমামি খরগোশ, ব্যাঙ, স্থানীয় ইঁদুরসহ নানা প্রাণী। খাবারের পর্যাপ্ততায় দ্রুত বংশবিস্তার করে বেজি। ২০০০ সালের দিকে তাদের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছে যায়।
এরপর শুরু হয় বেজি নির্মূলের দীর্ঘ অভিযান। ফাঁদ, ক্যামেরা, প্রশিক্ষিত কুকুর—সবই ব্যবহার করে জাপান। দ্বীপজুড়ে বসানো হয় ৩০ হাজারের বেশি ফাঁদ ও ৩০০টির বেশি ক্যামেরা। ২০১৮ সালের পর আর বেজির সন্ধান না মিললেও নিশ্চিত হতে আরও কয়েক বছর নজরদারি চালানো হয়।
অবশেষে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে, আমামি ওশিমা বেজিমুক্ত হয়েছে। ২০০০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে খরচ হয় প্রায় ৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ২৯০ কোটি টাকা।
এই ঘটনা দেখিয়েছে, প্রকৃতিতে মানুষের হস্তক্ষেপের ফল কতোটা ভয়াবহ ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। একটি সমস্যা সমাধানের জন্য আনা প্রাণীই যে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে, আমামি ওশিমার বেজির গল্প তার বড় উদাহরণ।