
সোমবার পশ্চিম কলম্বিয়ায় আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬৫ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। প্রায় ৫০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দেশটিতে চলতি শতাব্দীতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি এটি।
ভূমিকম্পে পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও জনপদে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। উদ্ধারকারীদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্থিতিশীল ধ্বংসস্তূপ। ভারী ক্রেনের পাশাপাশি হাতের সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে। কোনো কোনো স্থানে সম্ভাব্য জীবিতদের অবস্থান শনাক্ত করতে কম্পন শনাক্তকারী সেন্সর ও প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করা হচ্ছে।
পেরেইরা শহরের একটি ধসে পড়া বেকারিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। সেখানে রাস্তার পাশে পণ্য বিক্রি করা ৫৭ বছর বয়সী পাবলো লোয়াইজা আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ দল কম্পন শনাক্তকারী যন্ত্র ও প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে মাঝে মাঝে এমন সংকেত পেয়েছে, যা থেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে কারও জীবিত থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাইরে স্বজনদের অপেক্ষা যেন শেষই হচ্ছে না। ১৬ বছর বয়সী সারা লোয়াইজা তার চাচা পাবলোর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমার বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে।’
ক্যালি ও পেরেইরাতেও একইভাবে চলছে উদ্ধার অভিযান। ধ্বংসস্তূপে সামান্য শব্দ শোনার আশায় মাঝে মাঝে উদ্ধারকারীরা সবাইকে সম্পূর্ণ নীরব থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন। কারণ কয়েক সেকেন্ডের একটি শব্দও আটকে পড়া কারও অবস্থান শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ভূমিকম্পের ভয়াবহতায় দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। পাশাপাশি তিন দিনের জাতীয় শোকও ঘোষণা করা হয়েছে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র বা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাবার, পানি ও রক্ত সরবরাহে এগিয়ে এসেছেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। একই সঙ্গে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করেছে।
তবে উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। ফলে নিখোঁজদের স্বজনদের চোখ এখন ধ্বংসস্তূপের দিকে—হয়তো সেখান থেকেই আসবে বহু প্রতীক্ষিত কোনো শব্দ, যা জানিয়ে দেবে, এখনো বেঁচে আছেন কেউ।