
চলতি মাসের শুরুতে নাইজেরিয়ার ফেডারেল পলিটেকনিক নেকেডেতে ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজির শেষ বর্ষের পরীক্ষা শেষ করেন প্রমিজ। এরপর ‘সাইনিং-আউট’ অনুষ্ঠানে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন তিনি। এ সময় ভিড়ের মধ্যে একটি ছাগল নিয়ে হাজির হন তার মা চিন্নেরে।
প্রমিজ প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো কেউ তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে আসছেন। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখেন, ছাগলটি তার জন্যই এনেছেন মা। তিনি বলেন, আমি ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম।
দক্ষিণ-পূর্ব নাইজেরিয়ার ইগবো সংস্কৃতিতে ছাগল সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছার প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপহার দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। তবে প্রমিজের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মায়ের একটি পুরোনো প্রতিশ্রুতি।
ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় চিন্নেরে বলেছিলেন, খারাপ সঙ্গ ও সহিংস গ্যাং থেকে দূরে থেকে পড়াশোনা শেষ করতে পারলে তাকে পুরস্কৃত করবেন। ছেলের সেই সাফল্যের পর গাড়ি কিনে দিতে না পারলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ছাগল কিনে দেন তিনি। ছাগলটি কিনতে খরচ হয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার নাইরা, যা প্রায় ৮৮ মার্কিন ডলার।
প্রমিজ জানান, ছাগলটি এখন তার পোষা প্রাণী। এটি কখনো জবাই করবেন না। বরং ভবিষ্যতে আরেকটি স্ত্রী ছাগল কিনে প্রজননের পরিকল্পনা রয়েছে তার। মজার বিষয় হলো, ছাগলটি ফ্রাইড রাইস খুব পছন্দ করে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ছাগলটি এখন স্থানীয় ‘সেলিব্রিটি’। প্রমিজের সঙ্গে শপিং মলে গেলে অনেকে ছাগলটির সঙ্গে ছবি তুলতে ভিড় করেন।
ছেলেকে চমকে দিতে গ্রামের বাড়ি উবাহা-এজে থেকে এক ঘণ্টারও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে ছাগলটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন চিন্নেরে। “আমি চেয়েছিলাম সবাই জানুক, আমার ছেলে ভালোবাসার মানুষ। মানুষ আমার ছেলেকে ভালোবাসে—আমি সেটাই প্রমাণ করতে চেয়েছি,” বলেন তিনি।
প্রমিজ ভবিষ্যতে নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্য খাতে কাজ করতে চান। তার বিশ্বাস, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নতিতে অবদান রাখার সুযোগ তার রয়েছে।
মায়ের এই উপহারের প্রতিদান একদিন চমক দিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন প্রমিজ। তবে এরই মধ্যে একটি সাধারণ ছাগলই মা-ছেলের ভালোবাসার গল্পকে পৌঁছে দিয়েছে হাজারো মানুষের কাছে।
সূত্র: বিবিসি