
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ফেনীতে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছিলো ৭২ জনের। গত বছরের জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিলো ২৫ জন। চলতি আগস্টের ২০ দিনেই শনাক্ত ৭৬ জন, যা গত বছরের পুরো আগস্টের ৪৯ জনের চেয়েও বেশি। এতে গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ার চিত্র উঠে এসেছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে চারজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত চারজনই ফেনী সদর উপজেলার। বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঁচজন এবং দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপজেলাভিত্তিক হিসাবে ফেনী সদরে সবচেয়ে বেশি ১০১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দাগনভূঞায় ২৯, সোনাগাজীতে ১৯, পরশুরামে ১৩, ছাগলনাইয়ায় ১০ এবং ফুলগাজীতে পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এডিস মশার প্রজননস্থল বাড়ার কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এ মশা বংশবিস্তার করে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে।
ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়েও নিয়মিত বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নার্স ও সহকারীদের আচরণ এবং সেবা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবার মান ও রোগীদের প্রতি আন্তরিক আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চিকিৎসকদের মতে, জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা বা বমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলালা বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। রোগী শনাক্ত হলে চিকিৎসার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত শনাক্ত ১৭৬ রোগীর অধিকাংশই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এডিস মশার প্রজননস্থল দ্রুত ধ্বংস করা না গেলে সামনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।