
গতকাল শুরু হওয়া টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ৯৫ রানে। এই প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই এক শর নিচে অলআউট হলো বাংলাদেশ। ২১ বছরে প্রথমবার কোনো দল দুই ইনিংসেই একশর আগে অলআউট হলো। এর আগে শেষবার ২০০৫ সালে হারারেতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জিম্বাবুয়ে ৫৯ ও ৯৯ রান করে হার দেখে।
টস জিতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং বেছে নেওয়ার পর থেকে কখনোই স্বাগতিকদের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি। দুই ইনিংসেই হতাশার ব্যাটিংয়ের পর একমাত্র স্বস্তি শরিফুলের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৭ উইকেট পাওয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে শান্তর ৩১ রান সর্বোচ্চ ইনিংস, আর মুশফিক খেলেছেন অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংস।
প্রথম দিন বাংলাদেশ ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর ৮ উইকেটে ১৬৫ রান তুলেছিল অস্টেলিয়া। দ্বিতীয় দিনের অষ্টম ওভারে ক্যামেরন গ্রিনকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে রিভিউ নিয়ে ফেরান শরিফুল। ১০৫ বলে ১০ চারে ৬৭ রানে থামেন গ্রিন।
নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউড ২৪ রানের জুটি গড়ে ব্যবধান বাড়াতে থাকেন। হ্যাজেলউডকে ৬ রানে ফেরান তাইজুল। ২১০ রানে অস্ট্রেলিয়া অলআউট হলে লিড পায় ১৪৬ রানের। লায়ন ৬২ বলে ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন।
দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতেই আবারও স্টার্কের তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ২ ওভারে ৫ রান তোলা বাংলাদেশ পরের ওভারেই টানা দুটি উইকেট হারায়। সাদমানকে (১) ফেরানোর পরের বলে মুমিনুলকে বোল্ড করেন স্টার্ক। ৫/০ থেকে স্কোর দাঁড়ায় ৫/২।
এরপর ক্রিজে এসে দেখেশুনে খেলতে থাকেন শান্ত। নবম ওভারে স্টার্ককে টানা দুটি চার মারেন তিনি। কিন্তু আগের টেস্টের সেঞ্চুরিয়ার তানজিদ তামিম তাকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি। কামিন্সের বলে ৯ রানে ফেরেন এ ওপেনার।
৩ উইকেট হারিয়ে করে ৩৯ রান নিয়ে লাঞ্চ ব্রেকে যায় বাংলাদেশ। শান্ত ২৩ ও মুশফিক ৪ রানে দ্বিতীয় সেশনে খেলতে নামেন। এরপর ধস নামে বাংলাদেশের ইনিংসে। ৩১ রানের ব্যবধানে পাঁচ উইকেট হারায় তারা। একে একে শান্ত, লিটন, মিরাজ, হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ফিরে যান।
৮ উইকেটে ৯৫ রানে শেষ সেশনের বিরতিতে যায় কথিত টাইগাররা। মুশফিক ২৯ ও তাসকিন ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। চা বিরতি থেকে ফিরে আর তিন বল টিকে ছিল বাংলাদেশ। লায়ন বল হাতে নিয়ে প্রথম ডেলিভারিতে তাসকিনকে ২ বল পরে শরিফুলকে নিজের তৃতীয় শিকার বানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন লায়ন।