
দেখতে দেখতে কেটে গেল দীর্ঘ একটি দশক। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের মুখে জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে ঢল নেমেছিল লাখ লাখ রোহিঙ্গার। আজ পূর্ণ হলো সেই ইতিহাসের অন্যতম বর্বরতম মানবিক বিপর্যয়ের ১০ বছর।
তবে দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—গত এক দশকে একজন রোহিঙ্গাকেও তাদের মাতৃভূমি রাখাইনে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক নানা উদ্যোগ, আলোচনা ও বৈঠক হলেও প্রত্যাবাসনে কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। ফলে রোহিঙ্গা সংকট এখনো একই অবস্থায় রয়েছে। দেশে ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকলেও নিজ জন্মভূমিতে ফিরতে পারছেন না এসব ভাগ্যহত মানুষ।
২০১৭ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে হওয়া দ্বিপক্ষীয় চুক্তি কিংবা চীনের মধ্যস্থতায় ২০১৮ সালে নেওয়া ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ—কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি। মিয়ানমার সরকারের চরম অনীহা এবং রাখাইনের চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে প্রত্যাবাসনের সব চেষ্টা ভেস্তে গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে মুখে অনেক কথা বললেও মিয়ানমারের ওপর কার্যকর অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি। ফলে স্থবির হয়ে আছে পুরো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।
এদিকে সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বাড়ছে অপরাধ, মাদক চোরাচালান ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল। মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এখন নানামুখী অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপে পড়েছে স্থানীয় জনগোষ্ঠী।
তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে এখনো আশাবাদী বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ এবং মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ানো গেলে সংকট সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকটের এক দশক পূর্তির এই মুহূর্তে তাদের একমাত্র দাবি—নাগরিকত্বের অধিকারসহ নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া। মিয়ানমারের ওপর অবরোধসহ বিশ্ব সম্প্রদায় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নিলে রোহিঙ্গা সংকট আরও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।