
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ এখনো কম। তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করলেও অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট, দুর্বল সঞ্চালনব্যবস্থা, নীতি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ধারাবাহিকতার অভাব, জমির সংকট, দুর্নীতি এবং আইন ও বিধিবিধানের অস্বচ্ছ ও অসম প্রয়োগ নতুন বিনিয়োগের পথে বাধা তৈরি করছে।
তবে নতুন সরকারের অধীনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার লক্ষণ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছে এমসিসিআই। এ জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে ভাটা অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিনিয়োগে দুর্বলতার অন্যতম কারণ হিসেবে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
অন্যদিকে সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ। অর্থাৎ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ দুর্বল থাকলেও সরকারি খাতে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এ সময় নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল। জুনে ব্যাংক ঋণ ও আমানতের সুদহারের ব্যবধান দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৭০ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ সুদহার, তারল্য সংকট ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। এর প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতেও। তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ এবং উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশে নেমেছে।
রাজস্ব আদায়েও বড় ঘাটতি রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতিও অর্থনীতির অন্যতম উদ্বেগের জায়গা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা আদায় করেছে। বিপরীতে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা।
ফলে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ৫২৭ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার ১৭ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ।
উন্নয়ন ব্যয়ের চিত্রও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাত্র ৬৭ দশমিক ৫২ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে। আগের অর্থবছরে বাস্তবায়নের হার ছিল ৬৮ দশমিক ১৮ শতাংশ। গত কয়েক বছরে যেখানে এ হার ৮০ শতাংশের বেশি ছিল, সেখানে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো কমে তা এক দশকের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
সামনে মিশ্র চিত্র চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রাক্কলনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর অর্থনীতি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। ফলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকে মিশ্র চিত্র দেখা যাচ্ছে।
আগামী তিন মাসে রফতানি, আমদানি ও রেমিট্যান্স বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে আমদানি ব্যয় মেটাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহার বাড়ায় জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে রিজার্ভ কিছুটা কমতে পারে।
অন্যদিকে এ সময়ে মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনাও দেখছে এমসিসিআই।
এ অবস্থায় আগামী দিনে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করা, বেসরকারি বিনিয়োগ ও রফতানি বাড়ানো এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা ধরে রাখাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াকেই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে ব্যবসায়ী সংগঠনটি।