
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবারের আকস্মিক বন্যায় নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানির প্রবল স্রোত ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় উদ্ধারকারী দলগুলোর পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। নেপালের পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। ফলে দুর্যোগের প্রভাব শুধু স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বিদেশি পর্যটক ও অন্যান্য নাগরিকরাও এতে আটকা পড়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।
বন্যার পর একটি হ্রদ সৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। অতিরিক্ত পানি জমে হ্রদটি উপচে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। এতে আরও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়।
তবে চীনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ওই হ্রদের পানির স্তর কমতে শুরু করেছে। ফলে হ্রদটির পানি উপচে পড়ে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
তবু নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। বিপুলসংখ্যক মানুষ নিখোঁজ থাকায় উদ্ধারকারীদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের সন্ধান করা। একই সঙ্গে দুর্গম ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করার চেষ্টা চলছে।
বন্যায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের একটি বড় অংশের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত এই দুর্যোগের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও পুরোপুরি স্পষ্ট হবে না।
সূত্র: বিবিসি