
বন্যার পর ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ নেপালে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ধারকারী দল পাঠাতে চেয়েছিল। কিন্তু কাঠমান্ডু সিদ্ধান্ত নেয়—তারা কোনো বিদেশি উদ্ধারকারী দল বা সেনা হেলিকপ্টার নিজেদের মাটিতে সরাসরি নামতে দেবে না।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশের দাবি, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কাজ করার মতো উপযুক্ত অভিজ্ঞতা তাদের রয়েছে। তারা চেয়েছিল বিদেশি দলগুলোর জটিলতা এড়িয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে উদ্ধারকাজ চালাতে।
কিন্তু হিমালয় কন্যা নেপালে প্রচুর বিদেশি পর্যটক, পর্বতারোহী এবং বিদেশি সংস্থার কর্মীরা অবস্থান করেন। ফলে নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ব্যাপক কূটনৈতিক চাপের মুখে আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে নেপাল সরকার।
২৯ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, ''আমাদের নিরাপত্তা সংস্থা এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দলগুলো বর্তমানে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছে। অভিযান অব্যাহত থাকায়, উদ্ধারকাজকে আরও জোরদার করতে আমরা আমাদের বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে সুনির্দিষ্ট ও বিশেষায়িত সহায়তা চেয়েছি। বিশেষ করে— যেসব সুড়ঙ্গে বা টানেলে মানুষ আটকে আছে তা খোলার কাজে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জীবিত মানুষদের অবস্থান চিহ্নিত করার প্রযুক্তিতে আমাদের সাহায্য প্রয়োজন। এছাড়া দ্রুত ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষায় এবং মরদেহ সংরক্ষণের হিমাগারের জন্য আমরা সহায়তা চেয়েছি। এরই মধ্যে টানেল উদ্ধারে পারদর্শী ভারতের ১১ সদস্যের একটি বিশেষ প্রযুক্তিগত পর্যবেক্ষক দল কাজ শুরু করেছে এবং চীনের একটি টানেল উদ্ধারকারী দল খুব শীঘ্রই এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।"
সাধারণ দুর্ঘটনাস্থল আর হিমালয়ের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার উদ্ধারকাজ এক নয়। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানত যে নেপালের নিজস্ব উদ্ধারকারী দলের সক্ষমতা প্রশংসনীয় হলেও এমন চরম দুর্যোগে তাদের কাছে ড্রোন প্রযুক্তি, থার্মাল ইমেজিং এবং ভারী যন্ত্রপাতি বা বিশেষ হেলিকপ্টারের অভাব থাকতে পারে। তাই দ্রুত পৌঁছাতে নিজ দেশের আধুনিক উদ্ধার দল পাঠানোর অনুমতি চেয়েছে তারা।
বিশ্লেষকদের অনেক মনে করছেন, নেপালের ভৌগোলিক অবস্থান ভারত ও চীনের মতো দুই বৃহৎ শক্তির মাঝখানে হওয়ায় দুর্যোগের সময় এক দেশের উদ্ধারকারী দল অন্য দেশের চেয়ে বেশি প্রবেশাধিকার পেলে ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরির আশঙ্কা থেকে যায়। তাই বিদেশি উপস্থিতির বিষয়ে শুরু থেকেই একটু সতর্ক ছিল নেপাল।