
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সকালে পাহাড়ি ঢল ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসার পর বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্তত ৯৩৩ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। কারও সঙ্গে এখনো সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে নেপাল সরকারের ধারণা, সুড়ঙ্গের ভেতরে ১০০ জনের বেশি শ্রমিক জীবিত থাকতে পারেন।
আপার ত্রিশূলি-৩ প্রকল্পে উদ্ধারকারীরা কাদায় পূর্ণ সুড়ঙ্গের ওপরের অংশে পৌঁছে ভেতরে বাতাস সরবরাহ করছেন। পাশাপাশি ভারী ড্রিলিং ও খননযন্ত্র দিয়ে নিচের দিকে পথ তৈরির চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, উদ্ধারকারীরা দড়ি বেয়ে সুড়ঙ্গে নেমে শ্রমিকদের ডাকলেও কোনো সাড়া পাননি।
উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষায়িত দল এবং নেপালের পর্বতারোহী উদ্ধারকারীরাও অংশ নিয়েছেন। চীনা দল আপার ত্রিশূলি-১ প্রকল্পের প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে গিয়ে একটি মরদেহ উদ্ধার করেছে। চিলিমে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে ভারতীয় দল প্রায় ১০০ মিটার এগোলেও ধসে পড়া মাটিতে পথ বন্ধ পায়। সেখান থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এদিকে নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুর্যোগে ১১টি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতার প্রায় ১০ শতাংশ বা ৪৩১ দশমিক ১ মেগাওয়াট উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আরও ১৫টি নির্মাণাধীন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সূত্র: এএফপি