
অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদার মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামোর সুবিধা পাবেন।
এর আগে গত সোমবার নতুন বেতন ও ভাতা কাঠামো অনুমোদনের পর মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাংবাদিকেরা মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির কাছে জানতে চান, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন পে-স্কেলের সুবিধা পাবেন কি না। জবাবে তিনি বিষয়টি পরে স্পষ্ট করা হবে বলে জানিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তাও জানান, নতুন কাঠামোয় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা তাদের নিজ নিজ গ্রেড অনুযায়ী বাড়বে।
তিনি বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয় বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি বাজেট থেকে বেতন-ভাতা পান। ফলে তাদের জন্য আলাদা করে কোনো প্রজ্ঞাপন জারির প্রয়োজন হবে না।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার একটি অংশ সরকার মান্থলি পে অর্ডার (এমপিও) বা মাসিক বেতন আদেশ ব্যবস্থার মাধ্যমে দিয়ে থাকে। বর্তমানে দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬ লাখের বেশি শিক্ষক ও কর্মচারী এমপিওভুক্ত। তারা সরকারের কাছ থেকে মূল বেতনের ১০০ শতাংশ পান। চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতাও দেওয়া হয় সরকারি অনুদান থেকে।
গত বছর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তারা মূল বেতনের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। এর আগে এই ভাতা হিসেবে মাসে ১ হাজার টাকা দেওয়া হতো।
নতুন বেতন কাঠামোয় গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানের মতো নতুন কাঠামোতেও ২০টি গ্রেড থাকবে।
নতুন পে-স্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হবে। আর প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর হবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তবে সব ধরনের ভাতা একসঙ্গে পুনর্বিন্যাস করা হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য ১৫ শতাংশ হারে বিশেষ ভাতা দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর ধীরে ধীরে এই বিশেষ ভাতা তুলে নেওয়া হতে পারে।