
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভবনটির বেসমেন্টে নির্মাণকাজ চলছিল। দুপুর সাড়ে ১টার দিকে হঠাৎ ভবনটি ধসে পড়ে। খবর পেয়ে দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
দিল্লি ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, দুপুর ১টা ৩৩ মিনিটে ভবন ধসের খবর পায় তারা। এরপর বেলা ১টা ৫০ মিনিটের দিকে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থলে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ, ব্রিদিং অ্যাপারেটাস ও ওয়াটার বাউজার ইউনিটসহ একাধিক দল মোতায়েন করা হয়েছে। উদ্ধার করা তিনজনকে দিল্লির এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান চলছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাশের একটি ভবনও খালি করে দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সত্য নিকেতন ও আর কে পুরামে ভবন ধসের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দিল্লি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ডিডিএমএ), জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, দিল্লি পুলিশ, এমসিডি, ক্যাটস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাশের ভবনটি খালি করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপদে উদ্ধারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত আর কে পুরামের বিজেপি বিধায়ক অনিল কুমার শর্মা বলেন, ভবনটির পেইং গেস্ট আবাসনে বিভিন্ন এলাকা থেকে পড়াশোনার জন্য আসা বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী থাকতেন। তাদের কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পড়াশোনার জন্য আসা শিক্ষার্থীরা এখানে পিজি আবাসনে থাকতেন। ভবন ধসে পড়ার পর এখন পর্যন্ত দুজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাহিনী, এমসিডি ও পুলিশ তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেছে।’ বিধায়ক আরও বলেন, আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী এখনো ভেতরে আটকা রয়েছেন। তাদের কেউ কেউ ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ফোন করছেন বলেও জানান তিনি। উদ্ধারকারী দল তাদের নিরাপদে বের করে আনতে টানা কাজ করছে।
তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী পুরো জরুরি সাড়াদানকারী দলকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। সংসদ সদস্য হর্ষ মালহোত্রাও ফোনে পরিস্থিতির খোঁজ রাখছেন। প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া শিক্ষার্থীদের দ্রুত উদ্ধার করা।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ভবন ধসের আগে বিকট শব্দ শুনতে পান তারা। এরপর ঘটনাস্থলে গিয়ে পুরো এলাকা ধোঁয়া ও ধুলায় আচ্ছন্ন দেখতে পান। তিনি বলেন, ‘আমার কাছেই একটি দোকান রয়েছে। আমরা দোকানের ভেতরে বসে ছিলাম। হঠাৎ ভূমিকম্পের মতো বিকট শব্দ শুনতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বেরিয়ে আসি। তখন প্রচুর ধোঁয়া ও ধুলা ছিল। পুরো ভবনটি ধসে পড়েছিল।’
ওই প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখনো শব্দ শোনা যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। তার ভাষ্য, আশপাশে ছেলেদের ও মেয়েদের পিজি আবাসন ছিল এবং সেখানে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী থাকতে পারেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ভবনটির নিচে বেসমেন্ট নির্মাণের কাজ চলছিল। ওপরের কাঠামো শক্তিশালী করার কাজ করা হলেও নিচের স্তম্ভগুলো দুর্বল ছিল। ভবনের নিচে শ্রমিকরা কাজ করার সময়ই সেটি ধসে পড়ে বলে দাবি করেন তিনি।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ধসে পড়া ভবনটির নাম ‘হোস্টেল ডেজ’। এটি পাঁচতলা একটি ছেলেদের পেইং গেস্ট আবাসন ছিল। ভবনের কক্ষগুলোতে থাকা শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ধসে পড়া ভবনটির নাম হোস্টেল ডেজ। এটি পাঁচতলা একটি ছেলেদের পিজি আবাসন। এর পাশের আরেকটি ভবনও ধসে পড়েছে। কক্ষের ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। কতজন আটকা পড়েছেন, তা নিবন্ধনের তথ্য যাচাই করলেই জানা যাবে।’
ভবন ধসের পর থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকা পড়াদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া