
জানা গেছে কেপ ভার্দের ফোগো দ্বীপে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের অধিকাংশই শিশু ও কিশোর-কিশোরী। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। ওই ঘটনায় নিহতের সৎকারের জন্যই খোড়া হয়েছে কবর।
শনিবার রাতে ফোগো দ্বীপের একটি পাহাড়ি সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তা জোসে কানুতো সাংবাদিকদের জানান, ৩২ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে প্রায় ৩০ মিটার গভীর একটি দুর্গম খাদে পড়ে যায়।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বাসটি চা দাস কালদেইরাস এলাকা থেকে সাও ফিলিপ শহরের দিকে ফিরছিল। যাত্রীরা আগ্নেয়গিরি পিকো দো ফোগোর আশপাশে ভ্রমণ শেষে ফিরছিলেন। পাহাড়ি পথের দুর্গম একটি অংশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় প্রতিবেদনে একটি টায়ার বিস্ফোরণের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
ভ্রমণটি কোনো স্কুলের আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না। বাসটির চালক প্রতি বছর নিজের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য এমন ভ্রমণের আয়োজন করতেন। এবারও তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় তিনিও নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনাস্থলটি দুর্গম ও পাথুরে হওয়ায় উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হয়। রাতভর কাজ করে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা চালান জরুরি বিভাগের কর্মীরা। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকালে সাতজনের মরদেহ দাফন করা হয়েছে। পরে অন্য নিহতদেরও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। দুর্ঘটনার ঘটনায় কেপ ভার্দেতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কেপ ভার্দেতে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল। দেশটির সড়কব্যবস্থা সাধারণত ভালো বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। সূত্র: এনডিটিভি, দ্য সান।