
ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে ইসরাইল থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইসরাইল কোনো ‘ইহুদিবিদ্বেষী সরকারের’ কাছে নত হবে না। তার ভাষায়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে নিজেদের রক্ষা করতে ব্রিটিশ সরকার ইহুদি ও ইসরাইল রাষ্ট্রকে আক্রমণ করছে। ইসরাইলে ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের সময় শেষ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে ইসরাইলের নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রতি ব্রিটেনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে ‘ব্রিটিশ দখলে থাকা আর্জেন্টিনার ভূখণ্ড’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ারও দাবি করেন বেন-গভির। তিনি দ্বীপপুঞ্জটির আর্জেন্টিনীয় নাম ‘মালভিনাস’ উল্লেখ করে বলেন, ব্রিটেন জোরপূর্বক আর্জেন্টিনার কাছ থেকে এই ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে।
বেন-গভিরের অভিযোগ, ব্রিটেন শুধু দ্বীপপুঞ্জটি দখলে রেখেই ক্ষান্ত হয়নি; সেখানে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলন করে আর্জেন্টিনার জনগণের অর্থও নিয়ে যাচ্ছে। তাই ব্রিটেনের দখলদারত্ব অব্যাহত থাকা পর্যন্ত দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানান তিনি।
দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্য উভয় দেশই সার্বভৌমত্বের দাবি করে। তবে দ্বীপপুঞ্জটির প্রায় ৩ হাজার ৬০০ বাসিন্দার অধিকাংশই ব্রিটিশ শাসনের পক্ষে।
গত সপ্তাহে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই বলেন, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে তার দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ‘লঙ্ঘিত’ হয়েছে। আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বার্থ ‘যে-ই বিরক্ত হোক না কেন, সর্বশক্তি দিয়ে’ রক্ষা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের আশপাশে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকিও দিয়েছেন মিলেই। তার দাবি, ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ এখন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে বইছে।
এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আর্জেন্টিনা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে সামরিক অভিযান চালালে তিনি ব্রিটেনকে সমর্থন নাও করতে পারেন।
বেন-গভির ও স্মোটরিচের বক্তব্য ব্রিটিশ সরকারের ইসরাইলি বসতিবিরোধী নতুন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বসতিগুলোর বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ ঘোষণা করার কথা যুক্তরাজ্যের, যার মধ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে।
এর আগে গত সপ্তাহে ইসরাইল সরকার ব্রিটেনকে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেয়। ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর সতর্ক করে বলেন, ‘ব্রিটেন ইসরাইলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিলে ইসরাইলও ব্রিটেনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে।’
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জুলাইয়ে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এখনো ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেননি। তবে সোমবার বিকেলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অবহিত করেছেন বলে জানা গেছে। ট্রাম্প প্রশাসনও ব্রিটিশ সরকারের এই উদ্যোগের ঘোর বিরোধিতা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ব্রিটেনের ইসরাইলবিরোধী পদক্ষেপকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই