
এখানে কেউ কাটছেন চুল, কেউ ক্ষুরে কামাচ্ছেন দাড়ি। সামনে রয়েছে জলচকি, ছোট্ট আয়না ও চিরুনি। গাছের ছায়ায় খোলা আকাশের নিচে খদ্দের এলেই বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে টুলে। প্রতি শনিবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্ষুর-কাঁচির শব্দে মুখর থাকে এই বটতলা।
এটি ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ী সাপ্তাহিক বাজার। আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষের কাছে বাজারের কেনাকাটার পাশাপাশি এই বটতলাও যেন আলাদা আকর্ষণ। কারণ, বছরের পর বছর ধরে এখানে বসে চুল-দাড়ি কাটছেন নরসুন্দররা।
কারও বয়স ৭০ পেরিয়েছে, কেউ পাকিস্তান আমল থেকে যুক্ত এই পেশায়। বয়সের সঙ্গে বদলেছে বাজার, কমেছে খদ্দের। তবু জীবিকার টানে প্রতি শনিবার ঠিকই ক্ষুর-কাঁচি নিয়ে বটতলায় এসে বসেন তারা। সপ্তাহের অন্যদিন গ্রামে গ্রামে ঘুরে কাজ করলেও এই একদিনের হাটই তাদের প্রধান ভরসা। নতুন প্রজন্মের নরসুন্দররাও আধুনিক সেলুনে কাজের পাশাপাশি ধরে রেখেছেন পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য।
একদিকে আধুনিক সেলুনের ঝলমলে আয়োজন, অন্যদিকে বটগাছের নিচে ক্ষুর-কাঁচি হাতে পুরোনো দিনের সেই নরসুন্দর। সময় বদলালেও প্রতি শনিবার তাদের হাতের কাজ আর ক্ষুর-কাঁচির শব্দে এখনো জীবন্ত হয়ে ওঠে গ্রামীণ বাংলার শতবর্ষী এই হাট।