
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭ টার দিকে উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের আনন্দ বাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, তারা উজান চর ইউনিয়ন এলাকার বাসিন্দা এবং কৃষক। তারা সারের জন্য গেলে সার নেই এমন তথ্য তাদেরকে জানানো হয়। অনেক সময় অধিক দামে সার বিক্রি করেন। টাকা বেশি দিয়েও সার পাওয়া যায় না। কিন্তু প্রায়ই শামসু মন্ডলের বাজারে অবস্থিত মন্ডল ট্রেডার্স থেকে জেলার বাইরে বিভিন্ন জায়গায় সার বিক্রি করা হয়। এই বেরি বাধের রাস্তা দিয়ে অন্য জেলায় সার পাঠানো হয়। এটা দেখে কৃষকরা আজকে চোখে চোখে রেখে তার এই সার গাড়িসহ আটক করেছে।
কৃষকরা আরও অভিযোগ করেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ডিলাররা নিয়মিত সরকারি সার পাচার করছে এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে। ডিলারদের দোকানে সরকারি দামে সার না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বেশি দামে সার কেনার কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং সারের সংকট দেখা দিচ্ছে।
এ-সময় বিভিন্ন ভাবে সার ছাড়ানোর চেষ্টা করেন সেই ডিলারের লোকজন। বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। এ-সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষয়টি ডিল করেন। তাদের লোকজন ঘটনা স্থলে যাচ্ছে আপনি অপেক্ষা করেন। একটা সময় ডিলারের পক্ষ থেকে সেখানে দেশীয় অস্ত্রসহ হাজির হন নাজমুল নামে এক ব্যক্তি।
তখন তিনি যারা সার ধরেছে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিতে থাকেন। ঘটনা স্থলে থাকা সাংবাদিকের উপরও চড়া হন। এ-সময় তার কোমর থেকে দেশীয় অস্ত্র মাটিতে পড়ে যায় এবং তার কোমরে থাকা থাকা রিভলভার দৃশ্যমান হয়। এ-সময় তিনি সন্ত্রাসী কায়দায় সারের গাড়ি সেখান থেকে নিয়ে চলে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন জানান নাজমুল উপজেলা জামতলা এলাকার বকারটিলার চান মিয়া'র ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলো। একসময় ব্যাপক সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জড়িত ছিলো। বেশ কয়েকবছর সে বিদেশে কাটিয়ে আসছে। এই ঘটনায় স্থানীয় লোকজন আতংকিত হয়ে পরে। সামান্য সার নিয়ে অস্ত্র দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এলাকাবাসীর মধ্যে। এছাড়া মন্ডল ট্রেডার্স এর মালিক মাসুদ মন্ডল আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, তিনি সেখানে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। সার মাসুদ মন্ডলের দোকানের কি না বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সারের ডিলাররা চুরি করে সার বিক্রি করে বিষয়টি তিনি গুরুত্বের সাথে দেখবেন বলে জানান। তার কাছে, চোরাই সারের ক্রেতার ও যে অটোতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলো তার ভিডিও বক্তব্য রয়েছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর অফিসে আসেননি।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল হুদা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। একেতো সার চুরি করে জেলার বাইরে বিক্রি করা অপরাধ। আবার সেই সার ছাড়ানোর জন্য সাংবাদিকে হুমকি ধামকি দেওয়া এটা বড় ধরনের অপরাধ। বিষয়টি গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশকে গুরুত্বের সাথে দেখার জন্য বলা হয়েছে।