
লক্ষ্মীবাজারে নরসিংহ জিউ বিগ্রহ মন্দিরে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লক্ষ্মীবাজারে শ্রী শ্রী নরসিংহ জিউ বিগ্রহ মন্দিরের সংস্কারকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ইশরাক হোসেন জানান, নির্বাচনের পর সম্ভবত প্রথমবার তিনি এই মন্দিরে এসেছেন। তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে পাঠানোর জন্য তিনি এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। যে উদ্দেশ্যে তারা তাকে নির্বাচিত করেছেন, সেই উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ধনী-গরিব, হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
মন্দিরের সংস্কারকাজ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নরসিংহ জিউ বিগ্রহ মন্দিরে বেশ কিছু সংস্কারকাজ প্রয়োজন। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করবেন তিনি।
অতীতে পূজার আগে ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে ইশরাক হোসেন বলেন, হিন্দু-মুসলিম পাশাপাশি বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ বসবাস করে আসছেন। তাদের মধ্যে কোনো দিন কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। কোনো কোনো রাজনৈতিক দল অতীতে এ বিষয়টি নিয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দল এ ধরনের কর্মকাণ্ড করলে তা মোকাবিলায় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য তারা কাজ করছেন। এই জাতীয়তাবাদের অর্থ হলো দেশের সব নাগরিক সমান অধিকার ও সমান মর্যাদা ভোগ করবেন। হিন্দু-মুসলিম সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিয়ে তাদের নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে গুরুদায়িত্ব দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি গৌরবের জায়গা। বাংলাদেশের উৎপত্তির কথা বলতে গেলে মুক্তিযুদ্ধকে ধরতে হবে। এ দায়িত্ব সফলভাবে পালনের জন্য সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন তিনি।
এলাকার বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এলাকায় অনেক সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার রাতারাতি সমাধান হবে না। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বাংলাদেশের কেউ দায়ী নয়। গত ১৭ বছরে আমদানি নির্ভর জ্বালানি নীতির ওপর বাংলাদেশকে পরিচালনা করা হয়েছে। অথচ দেশের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সম্পদ উত্তোলনে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে দু'টি রিগ সচল করা হয়েছে এবং আরও দুটি নতুন রিগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে গিয়ে গ্যাস উত্তোলনের কাজ শুরু করবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগে, রাতারাতি হয় না। তাই জনগণকে কিছুটা ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।