
আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মকাণ্ড এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা আর সহ্য করার মতো নয় এবং দেশটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রক্ষার শেষ চেষ্টাও করে ফেলেছে। আমিরাতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশ ছাড়তে তাকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
নাটকীয় এই সিদ্ধান্তের পরপরই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, কূটনৈতিক সম্পর্ক কোনও ধাঁধা সমাধানের বিষয় নয়। এটি যৌক্তিকতা, যোগাযোগ এবং স্বার্থের স্পষ্টতার ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। তবে সেই পোস্টে গারগাশ সরাসরি আলজেরিয়ার নাম উল্লেখ করেননি।
আলজেরিয়া সরকারের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, আমিরাত তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছে এবং আলজেরিয়ার স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা করছে। গত জুলাইয়ে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাদজিদ তেববুন বলেছিলেন, আমিরাত যেখানেই পা রাখে, সেখানেই রক্ত ঝরে। আমিরাতকে একটি "অস্থিরতা তৈরি করা রাষ্ট্র" হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আলজেরিয়ায় যেন রক্তপাত না হয়, সে জন্য তারা চায় সংযুক্ত আরব আমিরাত দেশটি থেকে দূরে থাকুক।
আলজেরিয়া নীতিগতভাবে ইসরাইলের চরম বিরোধী এবং ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার অন্যতম সমর্থক। অন্যদিকে ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইসরাইলের সাথে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। আমিরাতের এই অবস্থানকে আলজেরিয়া ফিলিস্তিনি স্বার্থের সাথে "বিশ্বাসঘাতকতা" হিসেবে দেখে।
এছাড়া উত্তর ও পশ্চিম আফ্রিকার 'সাহেল' অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা আলজেরিয়ার জন্য জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমিরাত এই অঞ্চলের বিভিন্ন গোষ্ঠীকে বিপুল অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে। আলজেরিয়ার অভিযোগ, আমিরাতের এই হস্তক্ষেপ তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা উসকে দিচ্ছে।
উত্তর আফ্রিকায় আলজেরিয়ার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ হলো মরক্কো। বিতর্কিত 'পশ্চিম সাহারা' অঞ্চলের সার্বভৌমত্ব নিয়ে মরক্কোর সাথে আলজেরিয়ার তীব্র দ্বন্দ্ব রয়েছে। আলজেরিয়া সেখানে স্বাধীনতাকামী পোলিসারিও ফ্রন্টকে সমর্থন দেয়। কিন্তু সংযুক্ত আরব আমিরাত খোলাখুলিভাবে মরক্কোকে সমর্থন দিয়েছে এবং পশ্চিম সাহারায় নিজেদের কনস্যুলেট খুলে মরক্কোর দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে মরক্কো ও আমিরাতের এই ঘনিষ্ঠ অক্ষ নিজেদের সুরক্ষার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে আলজেরিয়া।