
সরকারের জিটুজি চুক্তির আওতায় ভারতীয় সরবরাহকারীর কাছ থেকে ১১ হাজার ৮০৩ টন সিদ্ধ চাল নিয়ে ‘এমভি এইচটি পাইওনিয়ার’ গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসে। খাদ্য বিভাগের পাঁচ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে চালের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় চাল খাওয়ার উপযোগী বলে মত দেওয়া হয়।
এরপর ২৪ ও ২৫ জুলাই দ্রুততার সঙ্গে চালগুলো চট্টগ্রামের হালিশহর, ঢাকার তেজগাঁও ও জয়দেবপুরের খাদ্যগুদামে পাঠানো হয়। তবে চাল গুদামে পৌঁছানোর পর ব্যবস্থাপকেরা লিখিতভাবে জানান, কিছু চাল দুর্গন্ধযুক্ত।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯২৫ মেট্রিক টন চাল ফেরত আনা হয়। গুদামে থাকা বাকি ১০ হাজার ৮৭৮ মেট্রিক টন চালের মান যাচাই চলছে। এসব চালের কতটুকু খাওয়ার উপযোগী, তা পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক জি. এম. ফারুক হোসেন পাটওয়ারী বলেন, চাল খালাসের সময় কিছু চালের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এরপর চাক্ষুষভাবে মান বহির্ভূত মনে হওয়া চালগুলো আলাদা করে রাখা হয় এবং মানসম্মত মনে হওয়া চাল গুদামে সংরক্ষণ করা হয়।
চালের মান যাচাইয়ে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তারা হালিশহর ও দেওয়ানহাট কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফা সুলতানা দীপ্তি জানান, চিঠির ভিত্তিতে তারা গুদাম থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। চলতি সপ্তাহ অথবা আগামী সপ্তাহে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
এদিকে, খাওয়ার অনুপযোগী হিসেবে চিহ্নিত ৯২৫ টন চাল নিয়ম অনুযায়ী ভারতীয় রপ্তানিকারকের কাছে ফেরত পাঠানোর কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে চালবাহী জাহাজটিকেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালে ভারত থেকে আমদানি করা চালের একটি চালানে বিষাক্ত আফলাটক্সিনের উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন।