
ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাট সূত্রে জানা গেছে, এ রুটে দুটি ফেরি রয়েছে। এর মধ্যে একটি ফেরি প্রায় দুই থেকে তিন মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। অপর ফেরিটিও পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ রুটে কোনো ফেরি চলাচল করছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ রুটে প্রায়ই ফেরি নিয়ে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। কখনোই এ রুটে ভালো মানের পর্যাপ্ত ফেরি দেওয়া হয় না। তাদের দাবি, ঘাটে পর্যাপ্ত ও ভালো মানের ফেরি না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এ নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে ভোগান্তি বাড়ছে।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় নৌকা ও স্পিডবোটে নদী পার হচ্ছেন যাত্রীরা। নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় এসব ছোট নৌযানে পারাপারকে ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন তারা।
ফরিদপুর থেকে আসা জমির উদ্দিন পাবনা মানসিক হাসপাতালে রোগী দেখতে যাচ্ছিলেন। ধাওয়াপাড়া ঘাটে এসে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। পরে বাধ্য হয়ে নৌকায় নদী পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে, পাবনা থেকে আসা এক যাত্রী বালিয়াকান্দিতে মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য নাজিরগঞ্জ ঘাটে আসেন। ফেরি না পেয়ে তিনিও বাধ্য হয়ে নৌকায় নদী পার হন। তাঁর ভাষ্যমতে, নদীতে স্রোত এত বেশি ছিল যে নৌকাটি স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছিল না। ঘাটে ভেড়ার সময়ও তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ফেরি বন্ধ থাকায় শুধু যাত্রীদের নয়, ক্ষতির মুখে পড়েছেন ঘাটকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরাও। ধাওয়াপাড়া ঘাটের হোটেল ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে ফেরি বন্ধ থাকায় যানবাহন ও যাত্রী কমে গেছে। রান্না করে বসে থাকলেও বিক্রি হচ্ছে না। এতে ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।
ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটটি শুধু পাবনা নয়, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলার সঙ্গে যোগাযোগের সহজতম পথগুলোর একটি। এ রুট দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাস, প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বিভিন্ন যানবাহন ঘাটে এসে ফিরে যাচ্ছে। বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচ ও সময় ব্যয় করে বিকল্প রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে তাদের। একই সঙ্গে অনেক যাত্রীকেও অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে নৌকা ও স্পিডবোটে নদী পার হতে হচ্ছে।