
প্রতীকী ছবি
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ, নিষেধাজ্ঞার ক্রমবর্ধমান ব্যবহার এবং পররাষ্ট্রনীতিতে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের একাংশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে। এসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারি বিনিয়োগকারীরা ডলারভিত্তিক সম্পদ থেকে বিনিয়োগ বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো শক্তিশালী। আন্তর্জাতিক লেনদেনের প্রায় ৯০ শতাংশেই ডলার ব্যবহৃত হয়। যদিও বৈশ্বিক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ডলারের অংশ ২০১৫ সালের ৬৪ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালের শেষে ৫৬ শতাংশে নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ট্রেজারি বন্ডের বাজারে। চলতি সপ্তাহে ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে, যা ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে নরওয়ের সার্বভৌম সম্পদ তহবিল মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমিয়ে বেশি আয়ের সুযোগ খোঁজার কথা জানিয়েছে।
ডলারের বিকল্প হিসেবে ডিজিটাল মুদ্রা ও স্বর্ণের ব্যবহারও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। চীনসহ কয়েকটি দেশ আন্তঃসীমান্ত ডিজিটাল মুদ্রা প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করছে। রাশিয়া ও ভারতও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রার মাধ্যমে বাণিজ্য নিষ্পত্তির ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
এদিকে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক রিজার্ভে থাকা স্বর্ণের পরিমাণ বিদেশি সরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে থাকা মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রবণতা ডলারের অবসানের ইঙ্গিত নয়; বরং ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিবেচনায় বিভিন্ন দেশ তাদের রিজার্ভ ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের উৎসে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে।