
এই ঐতিহাসিক ঘটনার ৯০০ হিজরি বছর পূর্তি উপলক্ষে রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) মালদ্বীপজুড়ে বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় আলোচনা, খুতবা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। আয়োজনে নেতৃত্ব দেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু।
এ উপলক্ষে হুলহুমালেতে সুলতান মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ গ্র্যান্ড মসজিদ ও ইসলামী সভ্যতা কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। ইসলাম গ্রহণের পর রাজা ধোভেমি সুলতান মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ নাম গ্রহণ করেছিলেন। তার নামেই নতুন এই কেন্দ্রটির নামকরণ করা হয়েছে।
মালদ্বীপে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আগে দ্বীপপুঞ্জটিতে বৌদ্ধধর্মের ব্যাপক প্রভাব ছিলো। প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার, স্তূপসহ বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়। একই সময়ে ভারত মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথে অবস্থানের কারণে আরব ও পারস্যের মুসলিম বণিকদের সঙ্গে মালদ্বীপের যোগাযোগ বাড়তে থাকে।
রাজা ধোভেমির ইসলাম গ্রহণের ঘটনাটি আবু আল-বারাকাত ইউসুফ আল-বারবারি নামে এক মুসলিম আলেম ও প্রচারকের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে প্রচলিত রয়েছে। তবে তার প্রকৃত পরিচয় নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ আছে। কেউ তাকে উত্তর আফ্রিকার বারবারি অঞ্চলের, আবার কেউ পারস্যের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করেন।
মালদ্বীপের ইসলাম গ্রহণের সঙ্গে ‘রান্নামারি’ নামের এক সামুদ্রিক দানবের কিংবদন্তিও জড়িয়ে আছে। চতুর্দশ শতকে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা স্থানীয় এ কাহিনি লিপিবদ্ধ করেন। তবে এটিকে আক্ষরিক ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে ইসলাম মালদ্বীপের সংস্কৃতি, শাসনব্যবস্থা ও স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে। প্রবালপাথরে নির্মিত ঐতিহাসিক মসজিদগুলো এর অন্যতম নিদর্শন। বর্তমানে দেশটির জাতীয় ও সাংবিধানিক পরিচয়েও ইসলামের আনুষ্ঠানিক অবস্থান রয়েছে। সূত্র: নিউ আরব