
আইসিসির বিরুদ্ধে নতুন এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তবে শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, ট্রাম্প প্রশাসন চাইছে এই পুরো সংস্থাকেই নিষ্ক্রিয় করে দিতে। ২১ সেপ্টেম্বর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।
ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই আইসিসির কার্যক্রমের বিরোধিতা করে আসছে। আইসিসি সম্প্রতি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুসহ বেশ কয়েকজন ইসরাইলি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ইসরাইলি নেতাদের বিরুদ্ধে জারি করা এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার চায় ওয়াশিংটন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ১২৫টি সদস্য দেশ নিয়ে গঠিত এই আদালত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। ট্রাম্প প্রশাসন অন্যান্য সদস্য দেশগুলোকেও আইসিসি থেকে সমর্থন তুলে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে আইসিসির কয়েকজন বিচারক ও কৌঁসুলির ওপর ব্যক্তিপর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে এখন ট্রাম্প প্রশাসন পুরো আইসিসি প্রতিষ্ঠানটিকেই পুরোপুরি অচল বা নিষ্ক্রিয় করে দিতে চাইছে। বিচারহীনতার সুযোগ পেতেই ট্রাম্প এমন আগ্রাসী পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলে মনে করছেন আইসিসি সংশ্লিষ্টরা। আইসিসির অ্যাডভোকেসি কো-অর্ডিনেটর জো প্যারিস বলেন, ''ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে নিশানা করছে, কারণ আদালতটি তার আসল কাজই করছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা তাদের মিত্র দেশগুলোর অপরাধের তদন্ত ও বিচার করার কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন এই ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তারা ইসরাইলি নাগরিকদের রক্ষার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান একদম স্পষ্ট। তারা নানা উপায় ও পদ্ধতি ব্যবহার করে আইসিসিকে ধাপে ধাপে ধ্বংস করতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা জারি করা, সদস্য দেশগুলোকে আইসিসি থেকে বেরিয়ে আসতে চাপ দেওয়া এবং আদালতে অর্থায়ন ও সহযোগিতা বন্ধ করা। তারা এটি করছে, কারণ তারা নিজেদের নাগরিক বা মিত্রদের সমস্ত অপরাধের ক্ষেত্রে পুরোপুরি বিচারহীনতা বা পার পাওয়ার সুবিধা চায়।''
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ আইসিসির ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা দিলে এই আদালত ডলারের মাধ্যমে লেনদেনের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। কোনো মার্কিন প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া আইসিসিকে কোনো পণ্য, তহবিল বা সেবা দিতে পারবে না।
মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক প্রভাবের কারণে এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা খুবই কঠিন। নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বজুড়ে অন্যান্য ব্যাংক বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোও আইসিসির সাথে কাজ করতে ভয় পাবে। এছাড়া আইসিসির ডাটা স্টোরেজ, ইমেইল বা সার্ভার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের চুক্তিও বাতিল হতে পারে। ব্যক্তিগত ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার বন্ধ হতে পারে, বাইরে থেকে তদন্তকারী নিয়োগ আটকে যেতে পারে এবং কর্মীদের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে।
২০২০ সালে প্রথম ট্রাম্প প্রশাসন আফগানিস্তানে অপরাধ নিয়ে তদন্তের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আইসিসির কয়েকজন ব্যক্তি-কর্মকর্তার ওপর এককভাবে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। কিন্তু আইসিসির মতো কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বা বৈশ্বিক মানবতাবিরোধী অপরাধের আদালতকে সম্পূর্ণভাবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা আন্তর্জাতিক ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা।