
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য বাগ্যা গ্রামের এবায়েদ উল্যার বাড়ি সংলগ্ন ধান খেতের পাশের রাস্তা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত নাঈম লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ইব্রাহীম খলিলের ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে সুবর্ণচরে নানার বাড়িতে থেকে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করতো।
স্থানীয় বেলাল হােসেন জানায়, নাঈম চর বাগ্যার বুলু নেতা সমাজের এবায়েদ উল্যার মেয়ের ঘরের নাতি। তার মা-বাবার প্রায় তিন বছর আগে বিচ্ছেদ হয় যায়। এরপর থেকে নাঈম নানার বাড়িতে থেকে উপজেলার চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসায় নাজেরা বিভাগে পড়া লেখা করত।
নিহত নাঈমের নানা এবায়েদ উল্যাহ বলেন, সোমবার রাতের খাবার খেয়ে নাঈম ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ফজরের নামাজের সময় নামাজ পড়তে উঠলে দেখি ঘরের দরজা খোলা, সে শয়ন কক্ষে নেই। সকাল ৭টার দিকে আমি সার আনার জন্য যাওয়ার পথে আমার বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে ধান খেতের পাশে রাস্তার ওপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি।
এবায়েদ উল্যাহ অভিযোগ করে বলেন, ২০-২৫ দিন আগে নাঈমের মায়ের নতুন করে আবার বিয়ে হয়। এরপর নাঈমের বাবা ইব্রাহিম খলিল তার মা সুমি আক্তারকে মোবাইলে নানা ভাবে হুমকি ধমকি শুরু করে। কিভাবে ছেলের আয় রোজগার খায় তা দেখে নেবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। ছেলের মৃত্যুর খবর দেওয়ার জন্য তাকে বারবার ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। দুপরে নিজ থেকেই নাঈমের বাবা ফোন করলে তাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। কিন্তু ছেলের মরদেহ দেখতে আসেননি। এ ঘটনার সাথে সাথে তার বাবা জড়িত থাকতে পারে।
নিহত নাঈমের মা সুমি আক্তার বলেন, নতুন করে বিয়ের পর আমি স্বামীর বাড়িতে চলে যাই। নাঈম যথারীতি তার নানার বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা চালাতে থাকে। এদিকে তার বাবাও তার সাথে মাঝে মাঝে যোগাযোগ করত। প্রায় দেড় মাস আগে নাঈম মাদ্রাসা থেকে না ফেরায় তার নানা তার বাবার সাথে যোগাযোগ করলে বলে নাঈমকে এসে নিয়ে যান। কিন্তু নতুন করে আমার বিয়ের পর থেকে সে আমাকে হুমকি ধমকি শুরু করে। গতকাল রাতে নাঈম রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পড়ে। সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনার সাথে তার বাবা জড়িত।
অভিযােগের বিষয়ে নিহত নাঈমের বাবা ইব্রাহিম খলিলের মুঠোফোনে কল করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সংযোগ কেটে দেন তিনি।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার বলেন, খবর পেয়ে আমিসহ পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহতের থুতনির নিচে দাগ রয়েছে। লাশ সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে৷ তবে এটি সাধারণ মৃত্যু নয়। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন পেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। নিহতের বাবার সাথে কথা হয়েছে। তিনি নিহতের নানার বাড়িতে আসছেন বলে জানান। নিহতের পরিবার থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুলিশের একাধিক দল বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।