
স্থানীয়রা জানান, কাদামাটির পথ, খানাখন্দ আর বর্ষার পানিতে তলিয়ে থাকা এসব সড়ক দিয়ে চলাচল একসময় গ্রামবাসীর জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ ছিল। অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যেত। অনেক সময় গ্রামের ভেতরে যানবাহনও প্রবেশ করতে পারত না।
গ্রামবাসীর এই দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে জনপ্রতিনিধি না হয়েও এগিয়ে আসেন আব্দুস ছাত্তার সিকদার। গত তিন বছরে মির্জাপুর উপজেলার ৯ নম্বর বহুরিয়া ইউনিয়নের ২০ গ্রামের ৬২টি সড়কে ব্যক্তিগত অর্থায়নে ভাঙা ইট ফেলে সংস্কার করেছেন তিনি। এসব কাজে প্রায় তিন শতাধিক মাহিন্দ্র ট্রাক ইট ব্যবহার করা হয়েছে। যার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা।
স্থানীয়রা জানান, এটি কোনো সরকারি প্রকল্পের আওতায় নয়, আবার কোনো সংগঠনের অর্থায়নেও এসব কাজ করা হচ্ছে না। মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে সড়কগুলো সংস্কার করে যাচ্ছেন ছাত্তার।
বর্ষায় কোনো রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাঁকে বিষয়টি জানান। খবর পেলেই তাঁর ইটভাটা থেকে ভাঙা ইট পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মানুষের প্রয়োজনে যেকোনো সময় রাস্তায় ফেলার জন্য ইটভাটাতেও ভাঙা ইট মজুত করে রাখা হয়েছে।
দিঘুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, সরকারি বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা অপ্রতুল। এমন বাস্তবতায় জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিজের অর্থ ব্যয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোয় ছাত্তার এলাকায় জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। শুধু রাস্তা সংস্কার নয়, এলাকার মানুষের বিপদে-আপদেও তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।
বহুরিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ হোসাইন বলেন, দক্ষিণ মির্জাপুর, বিশেষ করে বহুরিয়া ইউনিয়নে ছাত্তার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন।
মির্জাপুর উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য আব্দুস ছাত্তার সিকদার বলেন, ‘নিজের জায়গা থেকে যতটুকু সম্ভব, মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। তিন বছর ধরে এভাবেই কাজ করছি।’
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এলাকার মানুষ চাইলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে নির্বাচিত হতে না পারলেও মানুষের সেবা অব্যাহত রাখবেন বলে জানান ছাত্তার।
জনপ্রতিনিধি না হয়েও নিজের অর্থে ৬২টি সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন আব্দুস ছাত্তার সিকদার। তাঁর এই উদ্যোগে গ্রামের মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।