
ফাইনালে রোকেয়া হল ও শামসুন্নাহার হল মুখোমুখি হয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে রোকেয়া হল চ্যাম্পিয়ন এবং শামসুন্নাহার হল রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ফাইনালে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য রোকেয়া হলের সুমাইয়া জাহান প্রোমা ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ নির্বাচিত হন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সাবেক খেলোয়াড় ও অ্যাথলেট মুক্তা আক্তার, শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের উপপরিচালক ড. সালমা আরজু, ডাকসুর কমনরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে সালমা, কার্যনির্বাহী সদস্য ইমরান হোসাইন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশক্তির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল আমিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘তোমরা সৌভাগ্যবান। আমি বুয়েটে পড়েছি, কিন্তু জানতামই না মেয়েদের খেলার সুযোগ রয়েছে। অথচ পাশেই জিমনেসিয়াম ছিল। খেলার শব্দ শুনতাম।’
মেয়েদের জন্য নিরাপদ ও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা গেলে তারা খেলাধুলায় আরও বেশি এগিয়ে যেতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে মারদিয়া মমতাজ বলেন, ‘অনেকে বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। এ খেলায় ইসলামের পর্দার বিধান লঙ্ঘন হচ্ছে। কিন্তু মেয়েদের জন্য তেমন পরিবেশ রয়েছে?’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটা মসজিদে মুসলিম মেয়েদের জন্য সব ধরনের সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত ছিল।’
সাবেক খেলোয়াড় ও অ্যাথলেট মুক্তা আক্তার স্মৃতিচারণ করে বলেন, নাসরিন ইসলাম দীনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী, শামসুন্নাহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী এবং একজন প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ ছিলেন। প্রথম সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। মেয়েদের জন্য তিনি অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন।
নাসরিন ইসলাম দীনার স্মৃতি ও ক্রীড়া-অবদানকে সম্মান জানানো এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ডাকসুর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
প্রতিযোগিতার আয়োজনের বিষয়ে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছাত্রীদের নিয়ে আন্তঃহল বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চাই, নারী শিক্ষার্থীদের খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেওয়া হোক এবং তারা নিয়মিত অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাক।’
তিনি বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং নিয়মিত প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আরও অনেক নারী খেলোয়াড় তৈরি হবে।
প্রতিযোগিতাটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে অংশগ্রহণকারী সব দল ও খেলোয়াড়, হল প্রশাসন, শিক্ষক-কর্মকর্তা, রেফারি, সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করা সবাইকে ক্রীড়া সম্পাদকের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতা নারী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়াঙ্গনে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পাশাপাশি নাসরিন ইসলাম দীনার স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি উদ্যোগ বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।