
পরিবারের অভিযোগ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় চিকিৎসক ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের মাধ্যমে বিথীর অস্ত্রোপচার করা হয়। পরিবারের দাবি, ওই অস্ত্রোপচারের পর তার পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল।
অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বিথী আক্তার নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন। একপর্যায়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি সিসিইউতে ছিলেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় চার মাস ধরে অসুস্থ থাকার কারণে বিথী নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেননি। এমনকি সন্তানকে কোলে নেওয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও ছিলেন না তিনি। ফলে মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে তার ছোট্ট সন্তান।
বিথীর পরিবার দাবি করেছে, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলার কারণে তার এমন পরিণতি হয়ে থাকলে বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত চিকিৎসকদের জবাবদিহি, শাস্তি ও জরিমানার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। বিথী নিজেও তার চিকিৎসার বিষয়ে ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের নাম উল্লেখ করেছিলেন বলে দাবি করেছে পরিবার।
বিথীর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, চিকিৎসায় কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, পরিবারের প্রতি ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।