
আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি মেসির জন্য ছিল স্বপ্নের মতো- গোল, অ্যাসিস্ট, আনন্দের অশ্রু, সতীর্থদের আলিঙ্গন এবং নিজের দেশের সমর্থকদের সামনে বিদায়ী সংবর্ধনা। অন্যদিকে পর্তুগাল শিবিরে তখন চলছিল নানা অস্থিরতা। তবে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক পাশে রেখে মেসির বিদায়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রোনালদো।
উত্তর আমেরিকায় ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পরই আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন মেসি। তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন তাকে বিদায় জানাতে বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে ৬ অক্টোবর একটি বিশেষ ম্যাচের আয়োজন করে। বেনিনের বিপক্ষে সেই ম্যাচে একটি গোল করেন মেসি এবং সতীর্থদের দিয়ে আরও দুটি গোল করান। এর মধ্য দিয়েই বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পর্দা নামান আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
মেসিকে বিদায় জানাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুতই বার্তা দিতে শুরু করেন বিশ্বের বিভিন্ন তারকা ফুটবলার। তাদের মধ্যে ছিলেন নেইমার ও রোনালদিনহোও। বুধবার সেই তালিকায় যোগ দেন রোনালদো। মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের দীর্ঘ যাত্রা ও অর্জনের কথা তুলে ধরে একটি পোস্ট দেওয়ার পর সেটির জবাবে শ্রদ্ধা জানান পর্তুগিজ তারকা।
দুই কিংবদন্তির দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা স্মরণ করে মেসির অর্জনের প্রশংসা করেন ৪১ বছর বয়সী রোনালদো। তিনি লেখেন, ‘লিও, এত বছর ধরে নিজের দেশের হয়ে লড়ে গেছ এবং এমন এক গল্প রেখে গেছ, যা চিরকাল বেঁচে থাকবে। আর্জেন্টিনার হয়ে তুমি যা অর্জন করেছ, তার প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা। আলিঙ্গন।’
বুয়েনস এইরেসে ৮৫ হাজার দর্শকের সামনে শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামেন মেসি। এটি ছিল জাতীয় দলের হয়ে তার ২০৮তম ম্যাচ। দেশের হয়ে তিনি করেছেন ১৩৬ গোল। চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জিতিয়ে ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেন তিনি। এ ছাড়া আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২১ ও ২০২৪ সালে দুটি কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালে ফাইনালিসিমার শিরোপাও জিতেছেন মেসি।
নিজের বিদায় নিয়ে দীর্ঘ এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মেসি লিখেছেন, ‘গতকালই ছিল আমার শেষ ম্যাচ। ইতোমধ্যে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সিটি পরা খুব মিস করছি। তবে আমি জানি, আমি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এটি ছিল অবিশ্বাস্য এক যাত্রা—আনন্দের পাশাপাশি কিছু দুঃখও ছিল। তবে আমি নিশ্চিত, এই পথে নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপই মূল্যবান ছিল।’
মেসি আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকেও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি দিয়েগোকে ভুলতে চাই না। তিনিই আমাদের দেশকে তার প্রাপ্য জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন। আমি সবসময় বলি, আমরা যে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছি, তাতে তিনি আমাদের পাশে থেকে যেমন সাহায্য করেছেন, তেমনি স্বর্গ থেকেও করেছেন।’
নিজের ক্লাবগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান মেসি। তিনি বলেন, ‘আমি যেসব ক্লাবে খেলেছি, তাদের ধন্যবাদ। তারা সবসময় আমার অনুভূতিকে সম্মান করেছে এবং জাতীয় দলের জার্সি পরার সময় আমাকে দেশের হয়ে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।’
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেও ক্লাব ফুটবলে খেলা চালিয়ে যাবেন মেসি। আগামী রবিবার ডি সি ইউনাইটেডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইন্টার মায়ামির হয়ে আবার মাঠে নামবেন তিনি।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস