
মোদি সরকারের পতন অনিবার্য। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে ককরোচদের উত্তাল আন্দোলনের জেরে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, বিরোধীরা সম্মিলিতভাবে চাপ অব্যাহত রাখলে নরেন্দ্র মোদীর বিজেপি সরকারের পতন ঘটবে। এরপর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের কাজ শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী লিখেছেন, জ্ঞানেশ কুমার বিদায় নেবেন, এই সরকারও বিদায় নেবে। এরপর শুরু হবে গণতন্ত্র মেরামতের কাজ। এর আগে সংসদের সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র সাংসদদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময়ও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেন। তার মতে, নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে চলমান বিতর্কের চেয়েও মূল সংকট আরো অনেক গভীরে। এর সমাধানে সরকারের পরিবর্তন প্রয়োজন। দ্য হিন্দুসহ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ভারতের চলমান রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুল সংখ্যক মানুষকে বাদ দেয়া। এর মূল হোতা নির্বাচন কমিশন। সব মিলিয়ে নাগরিকদের ভোটাধিকার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত দশ মাসে কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন। এসব আপত্তির বড় অংশই ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে। এসব বিতর্কের জবাবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক এবং তাদের নির্দেশগুলো আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দেওয়া হয়েছে। এসব বিতর্কের মাঝেই দিকে, ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের উদ্যোগ নেয় ককরোচ জনতা পার্টি। ঐ কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং বিপুলসংখ্যক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক ব্যক্তির সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়ে যায়। আন্দোলনের নেতা ও ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকেও আটক করা হয়। রবিবার আদালতের নির্দেশে তিনি ও সংগঠনটির আরও দুই নেতা মুক্তি পান। মুক্তির পরপরই অভিজিৎ দীপকে মোদিকে নরেন্দ্র মোদিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে লেখেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য লজ্জার। এই দেশ এর আগে এত বড় কাপুরুষ ও দাঙ্গাবাজ দেখেনি। অন্যদিকে, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালও মোদীকে তীব্র আক্রমন করে বলেছেন, মোদির আচরণই বলে দিচ্ছে তিনি পতনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে আড়াল করার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে তাদের এই পদক্ষেপে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না এবং এটিই তাদের পতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়াবে। এই পরিস্থিতিতে সরকার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ ১২ই অক্টোবর দিল্লিতে বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ভোটাধিকার রক্ষা, নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার দাবিকে সামনে রেখে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিতর্ককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘাত এখন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জে রূপ নিচ্ছে। এটি আন্দোলন ক্রমেই এক দফা আন্দোলন, অর্থাৎ মোদী সরকারের পতনের আন্দোলনে পরিণত হচ্ছে বলেও মনে করছেন অনেকে।