
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহ-ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. রবিউল ইসলাম ফেরি চলাচল বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে নাব্যতা সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ড্রেজিং না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে ধাওয়াপাড়া থেকে নাজিরগঞ্জের উদ্দেশে একটি পরীক্ষামূলক ফেরি চালানো হয়। এরপর বিকালে স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হলেও এক দিনের মাথায় আবারও তা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
এর আগেও ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ফেরি চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিলো। গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ করা হয়। টানা ১৬ দিন বন্ধ থাকার পর ২২ সেপ্টেম্বর নৌরুটটি আবার চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে অক্টোবরের শুরুতে ফেরি চলাচল আবারও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে বারবার ফেরি বন্ধ ও চালুর ঘটনায় এ নৌপথ ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া- নাজিরগঞ্জের মধ্যে পদ্মা নদী পারাপারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এ ফেরি সার্ভিস। দুই জেলার পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতকারী মানুষ এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের জন্যও নৌরুটটি গুরুত্বপূর্ণ। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকলে এ পথে সরাসরি নদী পারাপার ব্যাহত হয়। তখন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিকল্প পথে চলাচল করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয়ের মুখে পড়তে হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নৌপথের নাব্যতা সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং করা প্রয়োজন। নাব্যতা সংকটের কারণে বারবার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় এ রুটের নিয়মিত যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দুর্ভোগ কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এদিকে, ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করে নৌপথের নাব্যতা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না করা পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। তবে কবে নাগাদ ড্রেজিং শুরু হবে এবং ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে নতুন কোনো সময়সূচি জানানো হয়নি।