দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বুধবার (২৫ মার্চ) আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়। রুহুল কুদ্দুস কাজল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সর্বশেষ নির্বাচিত সম্পাদক (২০২০-২১, ২০২১-২২, ২০২২-২৩)। তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী। রুহুল কুদ্দুস এর আগে পদত্যাগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। আসাদুজ্জামান অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তাকে আইনমন্ত্রী করা হয়েছে। এর আগে গত ২১ মার্চ কারাবাস থেকে মুক্তি পান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার হয়ে তিনি কেরানীগঞ্জ কারাগারে বন্দী ছিলেন। তথ্যসূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের আইন অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের টানা তিন মেয়াদের নির্বাচিত সম্পাদক (২০২০–২০২৩)। ১৯৯৫ সালে আইন পেশায় যাত্রা শুরু করেন রুহুল কুদ্দুস। প্রথমে ঢাকা জেলা জজ আদালতে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০০৮ সালে আপিল বিভাগে প্র্যাকটিসের অনুমতি পান। ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার হিসেবে কলপ্রাপ্ত হন তিনি। শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন কৃতিত্বের অধিকারী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (অনার্স) ও এলএলএম সম্পন্ন করার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে এলএলবি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া ইনস অব কোর্ট স্কুল অব ল’ থেকে বার ভোকেশন কোর্স সম্পন্ন করেন। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তিনি। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত লন্ডনে বাংলাদেশ হাই কমিশনে কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন, প্রশিক্ষণ ও সেমিনারে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় রুহুল কুদ্দুস বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। আইন, শিক্ষা, কূটনীতি ও রাজনীতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা তার এই বহুমাত্রিক কর্মজীবন তাকে দেশের আইন অঙ্গনে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।