ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জাতীয় দিবসের তালিকা থেকে বাদ ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট, আছে ৫ আগস্ট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 12, 2026 ইং
জাতীয় দিবসের তালিকা থেকে বাদ ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্ট, আছে ৫ আগস্ট ছবির ক্যাপশন:
ad728
২০২৪ সালের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের যে তালিকা প্রণয়ন করেছিলো, তা বহাল রেখেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ও ১৫ আগস্টসহ যে আটটি জাতীয় দিবস বাতিল করেছিলো, তার কোনোটি ফেরানো হয়নি বর্তমান তালিকায়।  বুধবার (১১ মার্চ) জারি করা এক পরিপত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে উদযাপন ও পালনের জন্য মোট ৮৯টি দিবস রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ক’ শ্রেণিতে ১৭টি, ‘খ’ শ্রেণিতে ৩৭টি এবং ‘গ’ শ্রেণিতে ৩৫টি দিবস রয়েছে।  নতুন পরিপত্রেও ক-শ্রেণিতে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনটিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালনের কথা জানানো হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে ছাত্র আবু সাঈদের নিহত হওয়ার দিন ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ পালন করা হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। নতুন সরকারের সময়েও তা বহাল থাকলো। নতুন পরিপত্রেও আগের মতোই দিবসগুলোকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ক-শ্রেণিতে থাকা জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি দিবস/উৎসবকে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন বা পালন করা হবে। খ-শ্রেণির ৩৭টি দিবসের মধ্যে যেসব দিবস ঐতিহ্যগতভাবে পালন করা হয়ে থাকে বা বর্তমান সময়ে দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ, উন্নয়ন ও সামাজিক উদ্ধুদ্ধকরণের জন্য বিশেষ সহায়ক, যেসব দিবস উল্লেখযোগ্য কলেবরে পালন করা যেতে পারে। মন্ত্রীরা এসব অনুষ্ঠানের সম্পৃক্ত থাকবেন এবং এ ধরনের অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। এ পর্যায়ে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য সরকারি উৎস থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। গ-শ্রেণিতে থাকা ৩৫টি দিবস নিয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, বিশেষ খাতের প্রতীকী দিবসগুলো সীমিত কলেবরে পালন করা হবে। মন্ত্রীরা এসব দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিতির বিষয় বিবেচনা করবেন। উন্নয়ন খাত থেকে এসব দিবস পালনের জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না। পরিপত্রে বলা হয়, তিন ধরনের দিবস ছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আরও কিছু দিবস পালন করে থাকে যেগুলো গতানুগতিক ধরনের। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এগুলো পুনরাবৃত্তিমূলক এবং বর্তমান সময়ে তেমন কোনো গুরুত্ব বহন করে না। সরকারের সময় এবং সম্পদ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি সংস্থাগুলো এ ধরনের দিবস পালনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা পরিহার করতে পারে। শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ (১-৭ আগস্ট), বিশ্ব শিশু সপ্তাহ (২৯ সেপ্টেম্বর-৫ অক্টোবর), জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ (নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ) সশস্ত্র বাহিনী দিবস (২১ নভেম্বর), পুলিশ সপ্তাহ, বিজিবি সপ্তাহ, আনসার সপ্তাহ, মৎস পক্ষ, বৃক্ষরোপন অভিযান এবং জাতীয় ক্রীড়া সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে কর্মসূচি গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদিত কর্মসূচি অনুযায়ী এসব অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হবে বলে পরিপত্রে জানানো হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের উৎসব ছাড়াও সাধারণভাবে দিবস পালনের বিষয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, সাজসজ্জা ও বড় ধরনের বিচিত্রানুষ্ঠান যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে। তবে বেতার ও টেলিভিশনে আলোচনা এবং সীমিত আকারে সেমিনার বা সিম্পোজিয়াম আয়োজন করা যাবে। কর্মদিবসে সমাবেশ বা শোভাযাত্রা পরিহার করা হবে। কোনো সপ্তাহ পালনের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠানসূচি সাধারণভাবে তিন দিনের মধ্যে সীমিত রাখার নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকারিভাবে গৃহীত কোনো কর্মসূচি যাতে অফিসের কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত না ঘটায় তা নিশ্চিত করতে হবে এবং আলোচনা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছুটির দিনে অথবা অফিস সময়ের পরে আয়োজনের চেষ্টা করতে হবে। পরিপত্রে আরও বলা হয়, নগদ কিংবা উপকরণ আকারে অর্থ বা সম্পদ ব্যয়ের প্রয়োজন হবে এমন সাধারণ ইভেন্টগুলো ছুটির দিনে কিংবা কার্যদিবসে আয়োজন করা যাবে। যেমন- রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী প্রচার, পতাকা উত্তোলন (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), ঘরোয়া আলোচনা সভা, রেডিও ও টেলিভিশনে আলোচনা, পত্রিকায় প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রদান ইত্যাদি। কোনো দিবস বা সপ্তাহ পালন উপলক্ষ্যে রাজধানীর বাইরে থেকে/জেলা পর্যায় থেকে কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে ঢাকায় আনা যথাসম্ভব পরিহার করা হবে। সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে মন্ত্রণালয়/বিভাগগুলোর নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে সমধর্মী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনকে প্রাধান্য দিয়ে এরূপ দিবস একই তারিখে একত্রে পালন করা আবশ্যক। মন্ত্রণালয়/বিভাগুলো প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এ বিষয়ক সারসংক্ষেপ মন্ত্রিসভা-বৈঠকে উপস্থাপনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজটি পোস্ট করেছেন : বসির আহমেদ

কমেন্ট বক্স
ডেপুটি স্পিকার হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

ডেপুটি স্পিকার হলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল